দুই বছরেও নিবন্ধন পরীক্ষা আয়োজনে ব্যর্থ এনটিআরসিএ

নিউজ ডেস্ক।।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ১৭তম নিবন্ধন পরীক্ষার আয়োজন করতে ব্যর্থ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। করোনার দোহাই দিয়ে দফায় দফায় পরীক্ষা আয়োজনের আশ্বাস গণমাধ্যমকে দিলেও এখনো পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করতে পারেনি সংস্থাটি। এর ফলে লাখ লাখ বেকারের স্বপ্নের পথে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ প্রদানকারী এই প্রতিষ্ঠান।

এনটিআরসিএ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষার আয়োজনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মহামারি করোনা। এরপর স্থানের সঙ্কট ও টেকনিক্যাল সমস্যা পরীক্ষা গ্রহণে বড় বাধা হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে পরীক্ষার্থীরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের খোড়া যুক্তিতে আমাদের বয়স ও সময় চলে যাচ্ছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর এনটিআরসিএ যখন মাত্র একটি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আয়োজন করতে পারেনি, ঠিক এই সময় পিএসসি তিনটি বিসিএস পরীক্ষার আয়োজন ও সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, ১৭তম নিবন্ধন পরীক্ষা আয়োজনের প্রায় সব প্রস্তুতি থাকলেও স্থান সঙ্কটকে বড় সমস্যা মনে করছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নজরে এনেছে। স্থান সঙ্কট থেকে বাঁচতে শিক্ষাবোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছে। তবে সব উদ্যোগই ব্যর্থ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, প্রতিবার শিক্ষাবোর্ড আমাদের জায়গা দিলেও এবার তারা আমাদেরকে জায়গা দেয়নি। যেকারণে আমরা পত্রিকায় জায়গা চেয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছি। কিন্তু কোনো ফল আসেনি। ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তির মেয়াদও শেষ হয়েছে। তবে এরপরও কর্মকর্তারা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন স্থান দেখছি। আমরা ধারণা করছি কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে হলেও খুব দ্রুতই পরীক্ষার আয়োজন করবো।

জানা যায়, ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে প্রায় ১২ লাখ প্রার্থী আবেদন করেন। ওই বছরের ১৫মে প্রিলি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়। তবে করোনার কারণে তখন পরীক্ষা স্থগিত হয়। করোনা এখন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে একাধিকবার বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন প্রার্থীরা। এরপরও এখন পর্যন্ত কোন সমাধান মেলেনি।

এনটিআরসি সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার জন্য সারাদেশে ১৯টি সেন্টার প্রয়োজন। এরমধ্যে ঢাকায় রয়েছেন ৫-৬ লাখ আবেদনকারী। তাহলে ঢাকার বাইরে ২৪ জেলায় খুব বেশি পরীক্ষার্থী সমাগম হয় না। এক্ষেত্রে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করেন চার ভাগের এক ভাগ। অর্থাৎ এই পরীক্ষাটি সম্পন্ন হলেই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিতে কতৃপক্ষের বেশি সময় লাগবে না।

কর্তৃপক্ষ বলছে ২৪ জেলায়, খাতা, ট্রাঙ্ক ও অন্যান্য কাগজপত্র দিতে লাগে। জায়গার সংকট ছাড়াও এনটিআরসিএতে সিস্টেম এন্যালিস্ট নেই। তবে অন্য জায়গা থেকে ধার করে এই কাজ সম্ভব। এর আগেও এভাবে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিতে পারবে এনটিআরসিএ।

এ বিষয়ে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. এনামুল কাদের খানকে মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে এনটিআরসিএ সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এ বিষয়ে কম্পিউটার কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। খুব সম্ভবত ফলপ্রসু ফল আসবে।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষা নেয়াটা আমাদের দায়িত্ব। খুব শিগগিরই এই সংকট কাটবে। জায়গার সংকট কেটে গেলে সাত দিনের মধ্যেও পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব বলে জানান তিনি।