দীর্ঘ ত্রিশ বছরের শ্রমদাস থেকে মুক্তি চায় অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকেরা

 শাহ রকিবুল ইসলাম।।

দেশের উচ্চশিক্ষা গ্রাম অঞ্চলের গরীব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বেসরকারি কলেজ গুলোতে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয় । কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিগত বিএনপি সরকারের ভ্রান্ত জনবল কাঠামো নীতিমালা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরদর্শীতার কারণে যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই কোর্স চালু করা হয় তা বাস্তবায়ন না হয়ে এখন কলেজ গুলোতে ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে । এর মূল কারণ হলো অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের “জনবল কাঠামো/ সরকারি নীতিমালাতে ” অন্তর্ভুক্ত না করা ।

উল্লেখ্য যে,১৯৯৫, ২০১০, ২০১৩ এবং ২০১৮ ও ২০২১ তে জনবল কাঠামো সংশোধন করা হলেও এসব শিক্ষকদের দাবি সমসময় উপেক্ষা করা হয়েছে। তারপরেও দীর্ঘ ত্রিশ বৎসর হলো শিক্ষকেরা প্রতিষ্ঠান থেকে নামমাত্র বেতনে কিংবা বেতনহীন অবস্হায় লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান করে আসছেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি বিধি মোতাবেক এই সকল শিক্ষক নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। বিধি মোতাবেক একজন শিক্ষকের নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় এবং নিয়োগ ও মৌখিক পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও ডিজি মহোদয়ের প্রতিনিধির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালা ও সরকারি নীতিমালা মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শতভাগ বেতন -ভাতা ও সুযোগ সুবিধা প্রদানের নির্দেশনা থাকলেও সারাদেশে মোট বেসরকারি কলেজের ৯০% কলেজ কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিতে চায় না। জানা গেছে,শিক্ষকদের বেতনের নাম করে গরীব ছাত্রছাত্রীদের নিকট হতে মাসে ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা করে বেতন নেওয়া হলেও শিক্ষকদের বেতন বাবদ ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে দিয়ে থাকে যা একজন শিক্ষকের বর্তমান বাজার দরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করা অসম্ভব। শুধু তাই নয় অধিকাংশ কলেজেই মাসের পর মাস সামান্য টাকা টাও ফান্ডে অর্থ না থাকার অযুহাতে বন্ধ রাখা হয়।

শুরুতে কলেজের সংখ্যা গুটি কয়েক হলেও ২০১৯ সাল পর্যন্ত তা ৬০০ ছাড়িয়ে যায় । ২০১৮ সালে বেসরকারি কলেজ গুলো জাতীয়করণ করার পর বতর্মানে অনার্স-মাস্টার্স পাঠদানরত কলেজের সংখ্যা ৪০৫ টি ও শিক্ষকের সংখ্যা ৫৫০০ জন।

বেসরকারি অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের দীর্ঘ ত্রিশ বছরের বেতন বঞ্চনার সমস্যা সমাধানের জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহোদয় ও অনার্স শিক্ষকদের প্রতিনিধি সাথে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আগামী ১২ই জুন ঢাকা নায়েম ভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ।

বেসরকারি অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের ন্যায্য ও সাংবিধানিক অধিকার এমপিও প্রাপ্তিতে মূল সমস্যা জনবল কাঠামো হলেও এর বেশ কিছু যুক্তি নিম্নে তুলে ধরা হলো:

সাংগঠনিক যুক্তি:
————————
১/ সরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিজির প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এনটিআরসি সনদধারী শিক্ষকেরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজের অনার্স মাস্টার্স কোর্সে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। তাই এই সকল শিক্ষকেরা এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

২/ সদ্য জাতীয়করণকৃত কলেজের অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকরা যদি ক্যাডার /নন ক্যাডার হতে পারে তবে বেসরকারি অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকরা এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

৩/ জনবল কাঠামো না থাকার পরেও ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষকেরা সরকারের বিশেষ আদেশে এমপিওভুক্ত হয়েছে তাই একই পদ্ধতিতে নিয়োগ পাওয়া অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকেরা এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

৪/ বেসরকারি মাদ্রাসার কামিল (মাস্টার্স) স্তরের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হতে পারে তাই বেসরকারি অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকরা এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

৫/ বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা এনটিআরসিতে উত্তীর্ণ হয়ে এবং এনটিআরসি সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে অনার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছে অনেক শিক্ষক। তাই এমপিও তাদের ন্যায্য দাবি।

৬/ একই এমপিওভুক্ত কলেজে ইন্টারমিডিয়েট স্তরে ২জন শিক্ষক, ডিগ্রির স্তরে প্রদর্শক সহ ৪ জন জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হতে পারে তাহলে উচ্চশিক্ষা স্তরের অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকেরা অবশ্যই এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন।

৭/ যে কোন প্রতিষ্ঠান বা বিষয় চালুর সময় শর্ত দেওয়া হয় যে কখনোই এমপিও চাইতে পারবে না, অথচ পরবর্তীতে সে সকল প্রতিষ্ঠান বা বিষয়ের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হচ্ছে , তাই অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকেরা এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

৮/ রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সহ দেশের বেশ কয়েকটি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা করা হয় কিন্তু পরবর্তীতে জনবল কাঠামো না থাকার কারণে অন্য কলেজের শিক্ষকরা বঞ্চিত হয় তাই অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকেরা এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

প্রশাসনিক যুক্তি :
———————–
১/ জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর উচ্চশিক্ষা কৌশলে সরকারি/বেসরকারি কলেজে ৩ বছরের ডিগ্রী (পাশ) কোর্স পরিবর্তে ৪ বছরের অনার্স কোর্স চালু করার কথা উল্লেখ রয়েছে এবং তা শিক্ষা সমাপনী যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১০ খ্রিস্টাব্দের পরবর্তী সময়ে দেশে শত শত কলেজে অনার্স কোর্স চালু করা হয় এবং শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। তাই মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়ন ও জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর এর জন্য হলেও বেসরকারি অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকরা এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

২/ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় কতৃক অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করে এমপিওভুক্তির বিষয়ে তিনটি পত্র/ নির্দেশনা (২০১৪\২০১৭\২০১৯) প্রদান করে । উক্ত পত্র বা নির্দেশনার আলোকেও অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকরা এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

৩/ দশম জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১২ ও ১৩ তম বৈঠকে অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত বিষয়ে দুটি সুপারিশ প্রদান করে । উক্ত সুপারিশের আলোকেও অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকেরা এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

৪/ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুজন মহাপরিচালক জনাব প্রফেসর ফাহিমা খাতুন/২০১৫ ও জনাব প্রফেসর এস এম ওয়াহিদুজামান/২০১৭ মহোদয়গণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনার আলোকে বেসরকারি অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করে এমপিওভুক্তির জন্য সুপারিশ সহ আর্থিক খরচ কত হবে তা জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে চিঠি দেন । উক্ত চিঠির আলোকেও অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকেরা এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

৫/ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয় ২০১৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয়কে বেসরকারি অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের শিক্ষকদের শিক্ষা নীতিমালাতে অন্তর্ভুক্ত ও এমপিওভুক্তির বিষয়ে মতামত চেয়েছিলেন। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয় এখন পর্যন্ত উক্ত চিঠির কোন জবাব দেই নি । উক্ত নির্দেশনার আলোকেও অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকেরা এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখে ।

৬/ অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিও প্রদানের জন্য মহান জাতীয় সংসদে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য যুক্তি সহকারে বক্তব্য প্রদান করেন। উক্ত যুক্তির আলোকেও অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকেরা এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখে ।

৭/ ২০১৮ সালের জনবল কাঠামো সংশোধন কমিটির প্রথম মিটিংয়ে বেসরকারি অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত ও এমপিও প্রদানের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। কমিটির সকল সদস্য মানবিক দিক বিবেচনা করে এসকল শিক্ষকদের জনবল কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তীতে কোন এক অদৃশ্য কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়। তাই উক্ত কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকেরা এমপিও পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

মানবিক যুক্তি:
———————-
১/ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ২৫ টাকা টিউশন ফি দিয়ে লেখাপড়া করছে অথচ গ্রামের গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীরা ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা টিউশন ফি দিয়ে পড়তে হচ্ছে । তাই গ্রামের গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বেসরকারি অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিও দেওয়া প্রয়োজন।

২/ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার ছিল “গ্রাম হবে শহর” তাই গ্রাম কে শহরে রুপান্তর করতে এবং গ্রামের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুগম করতে বেসরকারি কলেজের অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা প্রয়োজন।

৩/ সরকার অনার্স পর্যায়ে সকল সরকারি কলেজগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিয়ে যাচ্ছে, এক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শুধুমাত্র বেসরকারি কলেজগুলোর থাকছে। অনার্স শিক্ষকদের এমপিও প্রদান করা হলে বেসরকারি কলেজ গুলোতে অল্প টাকা দিয়ে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, এক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিকভাবে লাভবান হবে, শিক্ষার্থীরা গলাকাটা টিউশন ফি থেকে বাঁচবে এবং শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত হবে।

৪/ সকলের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করণে সরকার যেখানে সকল স্তরে শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করে দেওয়া জন্য কাজ করছে সেখানে উচ্চশিক্ষা স্তরে বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের নিকট হতে অধিক হারে বেতন আদায় অত্যন্ত অযৌক্তিক। এক্ষেত্রে অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিও ব্যবস্থা করলে এই বেতন আদায় করা বন্ধ হবে।

৫৷ শিক্ষার্থীদের নিকট হইতে অধিক হারে বেতন আদায়ের পরেও শতভাগ বেতনের কথা উল্লেখ করে নিয়োগ দানের পরো শিক্ষকদের মাসে নাম মাত্র বেতন দেওয়া হয় যা অত্যন্ত আমানবিক। তাই অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিও প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।

৬৷ একই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেখানে ডিগ্রী স্তরে ২১ বিষয় পাঠদানের জন্য প্রদর্শক সহ শিক্ষক এমপিওভুক্ত হতে পারে ৪ জন । অন্যদিকে অনার্স স্তরে ৩০ টি বিষয় পাঠদান করেও একজন শিক্ষকও এমপিওভুক্ত হতে পারে না । যা সবচেয়ে অমানবিক বিষয়। তাই অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিও প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।

৭৷ একই ছাত্র, বই, সিলেবাস, পরীক্ষা, খাতা মূল্যায়ন ও একই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষক হয়ে কেউ সরকারি বেতন পাচ্ছে আর কেউ নূন্যতম বেতন পাচ্ছে না তা অত্যন্ত অমানবিক । তাই অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিও প্রদান করা অত্যাবশ্যক।

৮/ শিক্ষার প্রধান নিয়ামক শক্তি হলো শিক্ষক, শিক্ষকদের বেতন বঞ্চিত রেখে কখনোই মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তাই অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিও প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।

তাই উপরোক্ত যুক্তির আলোকে আমরা বলতে পারি অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকেরা এমপিও পাওয়ার শতভাগ দাবি রাখে। দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকরা বেতনবঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম, অনুরোধ, স্মারকলিপি প্রদান করেও শিক্ষকরা ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। গত ১৬ ই মে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে দুই দিনের আন্দোলনে মাননীয় ভিসি মহোদয় অনার্স শিক্ষকদের বিষয়টি সমাধানের জন্য শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের সাথে বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন এবং শিক্ষকদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ই জুন, রোজ – রবিবার মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয় ও অনার্স শিক্ষকদের প্রতিনিধির মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত বৈঠকের মাধ্যমে অনার্স মাস্টার্স শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বেতন বঞ্চনার সমস্যা সমাধান হবে এটাই আমরা সাধারণ শিক্ষকরা প্রত্যাশা রাখি।

লেখক-
কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন।