দিনাজপুরের সেই মাদকসেবী কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি শিক্ষা বোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী হারুন  অর রশিদের প্রকাশ্য দিবালোকে মাদকসেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল এবং মাদক সংশ্লিষ্টতা ও শিক্ষা বোর্ডে তার বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভুত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে ‘শিক্ষাবার্তা’য় সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোন ধরণের ব্যবস্থা নেয়নি বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

সরকারি চাকরিতে প্রবেশে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এছাড়া মাদক নিয়ে কাজ করা সরকারি দপ্তর এবং পুলিশে নিয়মিত ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। স্থায়ী চাকরি হারাচ্ছেন অনেকে। সরকার যখন মাদক নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে এগুচ্ছে তখন শিক্ষা বোর্ড, কর্মচারীকে কেন বা কোন অদৃশ্য কারণে মাদকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পরেও তাকে ছাড় দিচ্ছেতা বোধগম্য নয় বোর্ডের অন্যান্য কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের। বোর্ডের অন্যান্য সাধারণ কর্মচারীরা মনে করছেন, এভাবে পার পেয়ে গেলে অন্যান্য কর্মচারীরাও মাদকে উৎসাহিত হবে। ব্যবস্থা নিলে কেউ মাদক সেবনের সাহস পেত না। হারুনের মাদকসেবনের ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আরও পড়ুনঃ দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কর্মচারীর মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অফিস চলাকালীন সময়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ও বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা বোর্ড সংলগ্ন গোপালগঞ্জ বাজারের পূর্ব পার্শ্বে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী হামিদের বাড়ি থেকে তার স্ত্রীর কাছ থেকে মাদক ক্রয় করে এবং শিক্ষা বোর্ডের আশে পাশে নিয়মিত ফেন্সিডিল সেবন করে আসছিলেন ঐ কর্মচারী। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বোর্ডের বিদ্যালয় অনুমোদন শাখায় কর্মরত হারুন অর রশিদ চা খরচ না পেলে কোন ফাইল-ই হাতে নেন না। এমনকি চা খরচ না পেলে জমাকৃত ফাইলও আটকে রেখে সময়ক্ষেপন করেন। বোর্ডের এই শাখায় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন, স্বীকৃতি নবায়ন, পাঠদানের অনুমতি এবং একাডেমিক স্বীকৃতির কাজ করতে আসেন বোর্ডের আওতাধীন দূরদুরান্তের শিক্ষক-সংশ্লিষ্টরা। হারুনের সাথে বনিবনা না হলে তাদের ঘুরতে ঘুরতে জুতার তলা ক্ষয় হয়ে যায়। বেশ কয়েকজন ভুক্তোভোগীর সাথে কথা বলে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে যেহেতু তাদের বোর্ডে নিয়মিত বিভিন্ন কাজে আসতে হয় তাই তারা নাম প্রকাশ করতে রাজী হননি।

আরও পড়ুনঃ ৭ দফা দাবিতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারীদের আলটিমেটাম

মাদকদব্র্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দিনাজপুর কার্যালয় জানায়, দিনাজপুরে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা হাতেনাতে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছি। বোর্ড ব্যবস্থা নিলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়। সম্প্রতি আমরা সমাজসেবা অফিসের এক অফিস সহকারীকে মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিয়েছি।

আর্থিক লেনদেনের কথা অস্বীকার করলেও অভিযুক্ত হারুন মাদক সেবনের কথা অকপটে স্বীকার করে শিক্ষাবার্তা ডট কমকে এর আগে বলেছিলেন, কাছের বন্ধুরা শত্রুতা করে এই ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিয়েছে।

মাদক সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পাওয়ায় কি ধরণের ব্যবস্থা নিলেন এমন প্রশ্নে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোঃ জহির উদ্দিন গত রবিবার বলেছিলেন, কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ কামরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২৪/২৩