দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা দিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কারিকুলাম

ঢাকাঃ প্রাণবন্ত শ্রেণি কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা দিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। কর্মশালার শেষ দিনে টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দক্ষতাভিত্তিক, কর্মমুখী এবং বিশ্বের উন্নত দেশের সঙ্গে মিল রেখে কারিকুলাম প্রণয়নের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি গবেষকদের অংশগ্রহণে দুইদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালা শেষ হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কারিকুলাম পরিমার্জনে গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন। দেশে বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে তারা বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়েছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শই আমাদের আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব জায়গায় দুর্বলতা রয়েছে সেগুলোকে অতিক্রম করে সঠিক জায়গায় আনার মধ্য দিয়ে মূলত জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার একটি পথে আমরা এগোচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে ৩৫ লাখ শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলার যে দৃঢ় প্রকল্পে আছি- এর মধ্যে মূলত দেশ গড়ার একটি অভিপ্রায় আমাদের আছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. পবিত্র সরকার। কর্মশালার টেকনিক্যাল সেশনে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।

দুইদিনব্যাপী এ কর্মশালায় ৩৭টি বিষয়ে দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা তাদের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং মতামত দেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় অতিথি হিসেবে ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক ধীমান কুমার চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেনসহ ভারত ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা।

বিদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে রয়েছেন ভাষাবিজ্ঞানী ও রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং বাংলা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড-এর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক পবিত্র সরকার, কলকাতার নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মনিমালা দাস, ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক অশোক রঞ্জন ঠাকুর, কলকাতার পোর্ট ট্রাস্টের সাবেক সচিব সত্যব্রত দাস, কলকাতার জেআইএস বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান সৌবিক চ্যাটার্জি, জেআইএস বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের প্রধান ড. ধর্মপাল সিং, বাংলা ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের আহ্বায়ক সৌম্যব্রত দাস, বাংলা ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের সমন্বয়ক অর্পিতা কাঞ্জিলাল, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক অরুণিমা ধর, ডা: দুলাল বসু, ডা. শিবাজী বসু, সর্দার সিমারপ্রীত সিং, ড. জয়দেব ভট্টাচার্য প্রমুখ।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০৬/১০/২০২৩    

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়