তিন শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ লালবাগ কেল্লা

প্রকাশিত: ৩:২৭ অপরাহ্ণ, শুক্র, ৪ ডিসেম্বর ২০

মোহাম্মদ আবদুল অদুদ।।

পুরনো ঢাকায় অবস্থিত আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ হলো লালবাগ কেল্লা। প্রথমে এই কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ। আর এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম। মোঘল স¤্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

মাত্র এক বছর পরেই দুর্গের নির্মাণকাজ শেষ হবার আগেই মারাঠা বিদ্রোহ দমনের জন্য স¤্রাট আওরঙ্গজেব তাকে দিল্লি ডেকে পাঠান। নবাব শায়েস্তা খাঁন ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন। তবে শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর এ দূর্গ অপয়া মনে করা হয় এবং শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন। ১৬৮৮ সালে শায়েস্তা খাঁ অবসর নিয়ে আগ্রা চলে যাবার সময় দুর্গের মালিকানা উত্তরাধিকারীদের দান করে যান।

ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ রাজধানী ঢাকা। কালের বিবর্তনের ধারায় মোঘল, জমিদার বা বিখ্যাত ব্যক্তি দ্বারা নির্মিত আহসান মঞ্জিল, হোসেনী দালান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা, কার্জন হল, ঢাকেশ্বরী মন্দির, লালবাগ কেল্লার মতো দর্শনীয় স্থানগুলোর জন্য আজও বিখ্যাত এই ঢাকা।

কোনটি কারুকার্য, কোনটি বা স্থাপনা আবার কোনটি রহস্যের জন্য আজও বিখ্যাত। এদের মধ্যে লালবাগ কেল্লা উল্লেখযোগ্য। মূলত দৃষ্টিনন্দিত স্থাপনা, পরী বিবির মাজার এবং রহস্যময় সুড়ঙ্গের জন্য এই কেল্লাটি আজও সগৌরবে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

তবে লালবাগ কেল্লার সুড়ঙ্গের রহস্যময় ইতিহাসের জন্য বহুল আলোচিত হয়ে থাকলেও আদৌ কেউ তার রহস্য ভেদ করতে পারেনি। মোঘল আমলে তৈরি এই লালবাগ কেল্লা। এটিকে নিয়ে লোকমুখে অনেক কথা প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে তার মধ্যে বহুল প্রচলিত এবং আলোচিত হচ্ছে লালবাগ কেল্লার সুড়ঙ্গ। জমিদাররা কোন বিপদ দেখলেই এই সুড়ঙ্গটি দিয়ে দিল্লি পালিয়ে যেতেন।

এই সুড়ঙ্গের রহস্য হল, যে একবার এই সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে সে আর ফিরে আসে না বা তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বিদেশি বিজ্ঞানী একবার দুটি কুকুর পাঠান কিন্তু কুকুর দুটি আর ফিরে আসে না। পরবর্তীতে আবার দুটি কুকুরকে, কারো কারো মতে দুটি ঘোড়ার গলায় লোহার শিকল বেঁধে পাঠালে শুধু লোহার শিকল ফিরে আসলেও কুকুর বা ঘোড়ার কোন চিহ্নও খুঁজে পাওয়া যায় নি।

অনেকের মতে এর মধ্যে এমন এক প্রকার গ্যাস রয়েছে যার প্রভাবে যে কোন প্রাণীর হাড়, মাংস গলে যায় আবারো কারো ধারণা এর মধ্যে এমন এক প্রকার শক্তি রয়েছে, যার কাছে প্রবেশ করলে কোন প্রাণীর পক্ষেই আর ফিরে আসা সম্ভব নয়। তবে এই সুড়ঙ্গের ভেতর এতই অন্ধকার যে যার মধ্যে কোন টর্চ বা আলো কোন কিছুই কাজে আসে না। বর্তমানে সুড়ঙ্গটি সরকারের নির্দেশে বন্ধ রয়েছে।

লালবাগ কেল্লার এই রহস্যময় সুড়ঙ্গটির রহস্য আদৌ ভেদ করা সম্ভব হয়নি। জানি না কোন দিন এর রহস্য ভেদ করা সম্ভব হবে কি না । পবিত্র ঈদ উপলক্ষে ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ লালবাগ কেল্লায় দর্শনার্থীদের প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ঈদ উপলক্ষে লালবাগ কেল্লায় প্রবেশ করার টিকিট আগের দামে (২০) টাকায় বিক্রয় করা হচ্ছে । কেল্লার ভিতরে এবং বাইরে আইনশৃংখলা বাহিনী রয়েছে যাতে দর্শনার্থীদের কোন প্রকার ক্ষয়Ñক্ষতি না হয়। তাছাড়া আগের সময় সূচি হিসাবে লালবাগ কেল্লা খোলা এবং বন্ধ হবে ।

দর্শনার্থীদের ভিড় থাকার কারণে লালবাগ কেল্লায় প্রবেশ দ্বার ১ঘন্টা আগে খোলে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু বন্ধ হবার সময় আগের ৬ টা ।

লেখক : সাংবাদিক/সম্পদনা : মুহাম্মদ নাঈম।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.