ঢাবিতে তৃতীয় মাদারীপুরের কৃতী সন্তান কেয়া

নিউজ ডেস্ক।।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা অনুষদ ‘খ’ ইউনিটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ৯৬.২৫ নম্বর পেয়ে ইউনিটে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন মাদারীপুরের কৃতী সন্তান সাবরিন আক্তার কেয়া।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে ফলাফল ঘোষণা করা হলে তিনি এই ফল অর্জন করেন। গত ৪ জুন এই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় পাস করেছেন ৯.৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাবরিন আক্তার কেয়ার বাড়ি মাদারীপুর সদরের হরিকুমার এলাকায়। তার বাবা সাবেক সেনা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান। পরিবারে তারা দুই বোন ও এক ভাই।

কেয়া মাদারীপুর ডনোভান সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে ২০১৯ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পান। এরপর মাদারীপুর সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে ২০২১ সালে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পান।

সাবরিন আক্তার কেয়া বলেন, আমার এই সাফল্যের জন্য প্রথমে আমি মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার সাফল্যের পেছনে যাদের সবচেয়ে বড় অবদান, তারা হলেন আমার মা-বাবা এবং শিক্ষক ও সহপাঠীরা। শিক্ষকদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় আমি এতদূর এসেছি। তাদের ধন্যবাদ জানাই।

অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ভালোই দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ ভালো ফল এসেছে। সুযোগ পেয়েছি। এটি আল্লাহর ইচ্ছা ও মা-বাবার দোয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা আমার স্বপ্ন ছিল। এখন ভর্তি হতে পেরে আমি অনেক খুশি। তবে এমন সাফল্যের নেপথ্যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।

পরিশ্রম না করে শুধু মেধা থাকলেই সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়। এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করার পর থেকে মা-বাবা আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছেন। সেখানে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য সুযোগ দিয়েছেন তারা। আমার বিশ্বাস ছিল সুযোগ পাব।

মাদারীপুর সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামাল হোসেন বলেন, সাবরিন আক্তার কেয়ার এই সাফল্য আমাদের কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। মাদারীপুরবাসী তাকে নিয়ে গর্ব করে।

মাদারীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. জামান মিয়া বলেন, আমরা গর্বিত যে মাদারীপুর সরকারি কলেজের ছাত্রী কেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় হয়েছে। সব সময় আমি তার সফলতা কামনা করি।

উল্লেখ্য, ঢাবির কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটে আবেদন করেছিলেন ৫৮ হাজার ৫৭৩ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৫৬ হাজার ৯৭২ জন প্রার্থী। এই ইউনিটে মোট আসন ১ হাজার ৭৮৮টি।