ঠান্ডাজনিক রোগে বরিশালে মৃত্যু ৭ জন

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চলতি মাসে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলে ১০৪ জন শিশু। গত মাসের চেয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা কিছুটা কমলেও প্রায় প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুরা। ঠাণ্ডাজনিত রোগ থেকে মুক্তি পেতে শিশুদের বায়ু দুষন থেকে দূরে রাখার পাশাপাশি গরম কাপড়ে আবৃত্ত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা।

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসাধীন ছিলো দেড় শতাধিক শিশু। গতকাল ১০৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন ছিলো। এদের প্রত্যেকেই জ্বর, সর্দি, কাশী, নিউমোনিয়া, খিচুনী, শ্বাসকস্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। ভর্তি হওয়া শিশুদের বেশিরভাগই গ্রামের।

শিশুদের অভিভাবকরা জানান, প্রচণ্ডশীতে কাবু হয়ে শিশুরা জ্বর, সর্দি, কাশী, নিউমোনিয়া, খিচুনী, শ্বাসকস্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। উপায়ন্ত না পেয়ে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করেন তারা। কিন্তু হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে শিশুদের। একেক বেডে ২-৩ জন শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছেে।এতে শিশুরা আরও সমস্যায় পড়ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।  

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শীতজনিত রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে নভেম্বর মাসে ২৭ জন এবং ডিসেম্বর মাসে ২৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারি মাসের প্রথম ৯ দিনে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত সেবিকা জেসমিন বেগম। মেঝেতে রাখায় শিশুদের নানা সমস্যার কথা স্বীকার করেন সেবিকারা।

শিশু ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এম আর তালুকদার মুজিব বলেন, মেঝেতে রেখে শিশুদের চিকিৎসা অমানবিক।

জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে তাদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা চলছে। ঠাণ্ডাজনিত রোগ থেকে দূরে রাখাতে শিশুদের বায়ু দূষণ থেকে দূরে রাখা, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং গরম কাপড়ে আবৃত্ত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আন্তঃওয়ার্ড ছাড়াও সরকারি খোলার দিন হাসপাতালের বর্হিবিভাগে গড়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ৩ শতাধিক শিশু।