টাকা নিয়ে পিইসি সনদ দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক

রাজবাড়ী পাংশা উপজেলার মেঘনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর (পিইসি) সনদ দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের থেকে তিনি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা ছাড়া সনদ পাচ্ছে না কোনো শিক্ষার্থী।

এদিকে, স্থানীয় এক সংবাদকর্মী বিষয়টি নিয়ে জানতে বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক আনিসুর তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে তিনি ওই সংবাদকর্মীকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন।

স্কুলটি থেকে পিইসি পাস করা শিক্ষার্থী ইমন, ইসমাইল ও সিমু জানালো, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পঞ্চম শ্রেণির সার্টিফিকেট প্রয়োজন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক টাকা ছাড়া কাওকে সার্টিফিকেট দেন না। পরে তারা দেড়শ করে টাকা দিয়ে সনদ এনেছে।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোছা. অ্যানি বলেন, প্রথমে টাকা ছাড়া সার্টিফিকেট আনতে গিয়ে ফিরে এসেছি। প্রধান শিক্ষক বলেন, টাকা ছাড়া কোনো সার্টিফিকেট দেওয়া হয় না। পরে দেড়শ টাকা দিয়ে সার্টিফিকেট এনেছি। দেড়শ টাকার কম দিলে কাওকে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন না।

এ বিষয়ে এস টিভির জেলা প্রতিনিধি শাহীন রেজা বলেন, সার্টিফিকেট দিয়ে শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে শুনে মেঘনা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার্টিফিকেট কিনে নিয়ে এসেছেন। পরবর্তীতে কোথা থেকে কিনে আনা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি রেগে গিয়ে তুই-তুকারি করেন এবং বলেন আমার ছেলে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন। তুই যত বড়ই সাংবাদিকই হোস না কেন আমি কিন্তু তাকে জানিয়ে দেবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনিসুর রহমান বলেন, কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের কাছ থেকে জোর করে টাকা নিইনি। খুশি হয়ে কেউ মিষ্টি নিয়ে আসে, আবার কেউ কেউ চা-নাস্তা করার জন্য ২০/৫০ টাকা দেয়। এরকম সব স্কুলে হয়।

তবে তিনি বলেন, আমাদের নিজ খরচে সার্টিফিকেট প্রিন্ট করে আনতে হয়। এর জন্য সরকারিভাবে কোনো খরচ দেওয়া হয় না। তাছাড়া এবার টাকা ছাড়াও বহু শিক্ষার্থীকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সকালে শাহিন নামে এক ছেলের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। সে আমার ছাত্র। তখন ছেলেটা আমার সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেছে। তবে আমি তাকে কোনো হুমকি দিইনি।

পাংশা উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, মেঘনা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সনদ দিয়ে টাকা নিচ্ছেন এমন কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাইনি। তবে সনদ দিয়ে টাকা নেওয়ার কোনো বিধান নেই, ফ্রিতে দেওয়ার কথা। অভিভাবক বা শিক্ষার্থীরা খুশি হয়ে কিছু দিলে, সেটা আলাদা কথা।