ঝুলন্ত তারে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে শহরগুলোতে। দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। শহরের আনাচে-কানাচে ডিশ ও ইন্টারনেটের তারের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সেগুলো দখল করে নিচ্ছে বিদ্যুতের খুঁটি। প্রতিটি এলাকাতেই এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে।

গত ১৬ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ শহরের সবুজবাগ এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে থাকা ডিশ ও ইন্টারনেটের তারে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে ভয়াবহ অগ্নিকা ঘটে। এতে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে ওই এলাকা। তা ছাড়া এ অগ্নিকাণ্ডে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ইন্টারনেট সংযোগ। যে কারণে ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হয় সেখানকার মানুষ। এমন ঘটনার পরেও এসব ঝুলে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ তার অপসারণ এবং বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে কোনো সাড়া নেই।

শহরের তিনকোনা পুকুরপাড়, সবুজবাগ, ঘাটিয়া বাজার, শংকরের মুখ, রাজনগর, বাসস্ট্যান্ড, চৌধুরী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে জঞ্জালের মতো ঝোলানো রয়েছে ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বাক্স ও তার। এত তারের জঞ্জালে ঝুঁকিতে খোদ বৈদ্যুতিক খুঁটি। তা ছাড়া শহরের অনেক এলাকায় বিভিন্ন দোকানপাট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সামনে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে এসব তার। যা পথে চলাচলকারীদের গায়ে বা পরিবহনে আটকে যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈদ্যুতিক খুটি ব্যবহার করে যত্রতত্র দেওয়া হচ্ছে ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগ। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা চিন্তা করা হচ্ছে না। এতে দিন দিন বাড়ছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা। ইন্টারনেট ও ডিশ কোম্পানিগুলো অপ্রয়োজনীয় তার অপসারণ না করেই নতুন সংযোগ দিচ্ছে। ফলে ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল বাড়ছে।

তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জাকারিয়া বলেন, কোম্পানির মালিকরা অপরিকল্পিতভাবে দোকানের সামনে দিয়ে ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগের লাইন টানছেন। অনেক সময় এসব তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়। কোনটা কিসের তার বোঝা কঠিন। চলচলারত রিকশা বা পথচারীদের গায়ে লেগে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যখন তখন।

শহরের এমএস অনলাইনের স্বত্বাধিকারী সাইফুদ্দিন জাবেদ বলেন, ‘শহরে প্রায় ১০-১২টি অনলাইন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সুবিধার কারণে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা বৈদ্যুতিক খুঁটি ব্যবহার করছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে আমরা পুরোনো তার অপসারণ করে নতুন সংযোগ দিয়েছি। এতে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে।’

হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী রাকীবুল হাসান বলেন, ‘অনুমতি না নিয়েই বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ইন্টারনেটের লাইন টানছেন মালিকরা। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এ ছাড়া কোনো এলাকায় বিদ্যুতের তার ঝুলন্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’