জেলায় জেলায় যাচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ও খাতা

অনলাইন ডেস্ক।।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সামনে রেখে জেলাপর্যায়ে প্রশ্ন ও খাতা পাঠানো শুরু হয়েছে। আর প্রশ্ন ফাঁস রোধে এ বছর কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র পাঠানো থেকে শুরু করে পরীক্ষা গ্রহণ পর্যন্ত নেয়া হবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এরই মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৩টি জেলার মধ্যে আট জেলায় প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিট ও খাতা পাঠানো হয়েছে। বাকি পাঁচ জেলায় চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পাঠানো শেষ হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপারে মোড়ানো প্রশ্নপত্র প্রত্যেক কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, চলতি বছরের এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় কড়া নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে। পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের ২০০ গজ পর্যন্ত অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। প্রশ্ন ফাঁস রোধে সারা দেশে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপারে মোড়ানো প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি-সমমান পরীক্ষা। পরীক্ষার প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি কিভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে সবশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় এসএসসি পরীক্ষা শুরু করতে শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি কী পর্যায়ে তা জানতে চাওয়া হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে কিভাবে কঠোর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে সেসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ফয়েল পেপারে মোড়ানো প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকরা যাতে ভিড় না করে সে জন্য কেন্দ্র সচিবের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করতে নির্দেশনা দেয়া হয়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম আমিরুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

অন্য একটি সূত্র জানায়, পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া আরো কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে সেসব নির্দেশ অনুসরণ করতে নির্দেশনা দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা সব বিষয়ে না নিয়ে কেবল গ্রুপভিত্তিক নৈর্বাচনিক তিন বিষয়ে নেয়া হবে। পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরের। তিন ঘণ্টার পরীক্ষা হবে দেড় ঘণ্টায়। উত্তরপত্রে ১০০ নম্বরের ওপর মূল্যায়ণ করা হবে। করোনার কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে নিজ আসনে বসতে হবে।

এবার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এমসিকিউ এবং সিকিউ অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনী ওএমআর শিট বিতরণ। সকাল ১০টায় বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বিতরণ, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র ওএমআর শিট সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে।

অপর দিকে বেলা ২টা থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষার ক্ষেত্রে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনী ওএমআর শিট বিতরণ করা হবে। বেলা ২টায় বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বিতরণ, বেলা ২টা ১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনী (ওএমআর শিট) উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিচার ফোন (স্মার্টফোন ছাড়া) ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া পরীক্ষার হলে অন্য কেউ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।

এইচএসসি ফরম পূরণের সময় তৃতীয় দফা বাড়ল : তৃতীয় দফায় বাড়ানো হয়েছে এইচএসসি ফরম পূরণের সময়। এ দফায় আজ রোববার থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ফরম পূরণ। সম্প্রতি শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এম এম আমিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে এসএমএস পাঠানোর সময় ২৪ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেই সাথে বাড়ানো হয়েছে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ফি পরিশোধের সময়। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণে ব্যর্থ হলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে বহন করতে হবে।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে সময় বাড়ানো হয়েছিল। এবার বাড়ানো হলো তৃতীয় ধাপে সময়। এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে এক হাজার ১৬০ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এক হাজার ৭০ টাকা ফি ধরা হয়েছে। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য দৃষ্টিগোচর হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফরম পূরণ প্যানেল বন্ধ করাসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বোর্ড। উল্লেখ্য, আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা। শেষ হবে ৩০ ডিসেম্বর।