জীবন নিয়ে খেলার অবসান কবে

প্রকাশিত: ২:৫৬ অপরাহ্ণ, রবি, ১৫ নভেম্বর ২০

সত্যিই বিচিত্র এই দেশ। এখানে রাষ্ট্র থাকলেও রাষ্ট্রের কার্যকারিতা নিয়ে এখন ব্যাপক প্রশ্ন। সরকারের বিভিন্নখাতে যে পরিমাণ দুর্নীতি অনিময় স্বেচ্ছাচারীতার সংবাদ বের হচ্ছে প্রতিদিন তাতে ভাবতেই অবাক লাগে বিশাল এক লটবহরের আমলাতন্ত্র কি করছেন?

দেশের প্রতিটি খাতের দুর্নীতি এখন আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে। করোনা মহামরিতে আমরা দেখলাম স্বাস্থ্যখাতের বিস্ময়কর সব অরাজক চিত্র। কারণ স্বাস্থ্যখাত মানে মানুষের জীবন মরণ সমস্যার বিষয়। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোমতেই কোনো রাষ্ট্রের চিত্র হতে পারে না। আমরা এখানেও রাষ্ট্রের চরিত্রকে হার মানিয়ে এক মধ্যযুগীয় আদিম বর্বরতায় বসবাস করছি।

সম্প্রতি সংবাদে জানা গেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন এবং যথাযথ সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে দেশের ১১ হাজার ৯৪০টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনেস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে ২ হাজার ৯১৬টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক লাইসেন্সের জন্য কোনো আবেদনই করেনি। ৯ হাজার ২৪টি হাসপাতাল-ক্লিনিকের মধ্যে কোনো কোনোটি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করলেও এখনও অনুমোদন পায়নি। আবার কোনোটির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেই অর্থে সেগুলোও অবৈধ।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনা উদঘাটিত হওয়ার পর জানা গিয়েছিল, অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ওই হাসপাতাল।আর গত সোমবার ঢাকার আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে বরিশাল মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আনিসুল করিম শিপনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর জানা যায়, ওই হাসপাতালও সেবা দেওয়ার অনুমোদন পায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন: তালিকা ধরে এসব হাসপাতাল-ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে সেগুলো বন্ধ করা হবে। তবে একসঙ্গে সব জায়গায় হয়ত অভিযান চালানো যাবে না। আমাদের এত জনবল নেই যে একসঙ্গে সবগুলো বন্ধ করে দিতে পারব। আমি সিভিল সার্জনদের বলেছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার জন্য।

এরপর আমরা কী বুঝবো? কোটি কোটি টাকা খরচ করে লক্ষ লক্ষ লোকবলের সামর্থ্য নেই এইসব অনুমোদনহীন ১২ হাজার হাসপাতাল ক্লিনিক বন্ধ করার। আসলে সদিচ্ছা নেই। মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান তার জীবন। মানুষ জীবনের সব সঞ্চিত অর্থ খরচ করেও বাঁচতে চায়। আর এটাই এইসব মুনাফালোভী অসৎ ধনবানদের জন্য চমৎকার সুযোগ এনে দিয়েছে। সঙ্গে আছে রাষ্ট্র ব্যবস্থার অসৎ আমলাতন্ত্র।

মোটা টাকার বিনিময়ে এ যেনো যমের হাতে মানুষের প্রাণ তুলে দেয়া। অনুমোদনহীন যেসব চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে ৩ হাজার ৫৩৫টি ঢাকা বিভাগে, ২ হাজার ২৩২টি চট্টগ্রাম বিভাগে, ১ হাজার ৫২৩টি খুলনা বিভাগে, ১ হাজার ৪৩৮টি রাজশাহী বিভাগে, ১ হাজার ৯৯টি রংপুর বিভাগে, ৯৬৩টি ময়মনসিংহ বিভাগে, ৬০৩টি বরিশাল বিভাগে এবং ৫৪৬টি সিলেট বিভাগে।

অচিরেই এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে। সমস্ত হাসপাতাল ক্লিনিক পরিদর্শন করে তাদের সেবার মান দেখে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার দেখে তৎক্ষনাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাতিল করে দিতে হবে তাদের সব অবৈধ কার্যক্রম। সীলগালা করে দিতে হবে এইসব প্রতিষ্ঠান।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.