জীবন-জীবিকা দুটিই বড় চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত: ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ, শনি, ১০ জুলাই ২১

।। রায়হান আহমেদ তপাদার।।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগকালে মানুষকে বাঁচানোর পাশাপাশি অর্থনীতির চাকাও সচল রাখতে হবে। আগে করোনা মোকাবিলা, পরে অর্থনীতি এমন ভাবলে ভুল হবে। ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়ে গেলে দেশের অর্থনীতিতে ধস নামবে।

বিরূপ প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। ফলে জীবন আর জীবিকাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। নিয়ম মেনে সীমিত পরিসরে হলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে হবে।

একদিকে মানুষের জীবন রক্ষা, অন্যদিকে অর্থনীতির পুনর্বাসন-পুনর্গঠন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট খুলে দিয়েছে সরকার। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে বর্তমানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে।

গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির ফলে দেশের অর্থনীতিতে নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরকার, বেসকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে এসব মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ানো হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষায়ও উঠে এসেছে দেশের সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা।

কথায় কথায় আমরা সরকারের দোষ খুঁজি। অযথাই সব কিছুর জন্য সরকারকে দায়ী করি। অথচ সরকার মানুষকে বাঁচাতে সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। খুব প্রয়োজন এখন গুজব না ছড়িয়ে, উস্কানি না দিয়ে, মানুষকে সচেতন করা, স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা। মানুষকে সাহস দিয়ে ভয়মুক্ত করা। পরস্পর পরস্পরের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া।

এই ক্রান্তিকাল কিভাবে অতিক্রম করা যাবে তার ওপরই নির্ভর করছে আমাদের ভবিষ্যৎ। জীবনের জন্যই জীবিকা। জীবনকে অবশ্যই নিরাপদ রাখতে হবে। সুতরাং কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। প্রত্যেককে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। জীবিকার তাগিদে আতঙ্কিত হলে চলবে না।

সামাজিক সুরক্ষার বলয় বাড়িয়ে কর্মীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করেই সচল রাখতে হবে উৎপাদন খাত। গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের একদল গবেষক বলেছিলেন যে, জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পিক বা সর্বোচ্চ চূড়া আসতে পারে।

আইইডিসিআর বলছে, বাংলাদেশে ৩০টির বেশি জেলায় শনাক্তের হার ১০ শতাংশের বেশি। আর ২০টির বেশি জেলায় সংক্রমণের হার ৩০ শতাংশ কিংবা তার চেয়েও বেশি। যেসব জায়গায় সংক্রমণ এরই মধ্যে অনেক বেশি হয়েছে, সেখানে হয়তো তা কমতে শুরু করবে।

আবার নতুন নতুন জায়গায় সংক্রমণের হার বাড়তে থাকবে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিদিন যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ২৮ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত চারদিনে কোভিড রোগী শনাক্তের মোট সংখ্যা ৩৩ হাজারের বেশি। তবে উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর কোথাও কোথাও শনাক্তের হার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। গ্রামের দিকে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে গেছে এবং ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে না পারলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, লকডাউনের আগে বিপুল সংখ্যক মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়ার কারণে গ্রামাঞ্চলে সংক্রমণের হার আরও বাড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান লকডাউন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে সংক্রমণের মাত্রা কমে আসবে। তবে জীবন ও জীবিকাকে একসঙ্গে বাঁচানোর কাজটি সহজ হবে না। আইএমএফ বলেই দিয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মধ্যে ঢুকে গেছে। আর জীবন বাঁচাতে ঘরে বসে থাকার সময় যত দীর্ঘ হবে, অর্থনৈতিক সংকট তত বাড়তে থাকবে।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ও লিখেছেন, ‘আন্দাজ হয়, ছয় মাস এই যুদ্ধ চলবে, হয়তো খুব বেশি প্রাণক্ষয় হবে না। কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতির পতন হবে। ধনী দেশগুলো বাইরে থেকে কেনা বন্ধ করে দেবে। আমরা এক বিপুল মন্দা দেখবো। এ ছাড়া অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে ভোক্তারা কেনাকাটা কমিয়ে দেয়। কারণ, এ সময় আয় কমে যায়, চাকরি চলে যায় এবং সামনের দিনে আরও চাকরি চলে যেতে পারে— এই আশঙ্কাও থাকে। মানুষ হাতে থাকা অর্থ খরচ করতে চায় না বলে সামগ্রিক চাহিদায় ধস নামে। ফলে নতুন বিনিয়োগ কমে যায়, নতুন চাকরিও সৃষ্টি হয় না।

তখন মন্দা আরও তীব্র হয়। এ রকম এক সময়ে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের হাতে টাকা রাখার ব্যবস্থা করা। বিভিন্ন দেশ তাই এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থের তহবিল গঠনের ঘোষণা দিচ্ছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আইএমএফের দুই প্রধান তাদের লেখায় পরিষ্কারভাবে বলেছেন, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ। চিকিৎসক ও নার্সদের বেতন-ভাতা, সহায়ক হাসপাতাল ও জরুরি কক্ষ তৈরি, দ্রুত বানানো ও স্থানান্তর করা যায় এমন ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা, সব ধরনের নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা করা এবং নিয়মিত হাত ধুতে হবে এমন অতিসাধারণ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া— এসবই হচ্ছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিনিয়োগ। আর জীবিকা বাঁচাতে প্রয়োজন লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেয়া।

এর মধ্যে থাকবে নগদ সহায়তা, বেতনে ভর্তুকি, স্বল্পমেয়াদি কাজের ব্যবস্থা করা, বেকারদের জন্য কর্মসূচি তৈরি এবং ঋণ করার ব্যয় কমানো। আবার যেসব দেশে অনানুষ্ঠানিক খাত বড়, যাদের জীবিকা প্রতিদিনকার মজুরির ওপর নির্ভরশীল, সেসব দেশে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। কেননা, সেখানে সামাজিক দূরত্ব পালন করে যাওয়া কঠিন একটি কাজ। বাংলাদেশে মোট শ্রমশক্তির বড় অংশই কাজ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে। সুতরাং বিপর্যয় ও মন্দার এই সময়ে কাদের বিশেষ সহায়তা লাগবে এবং কী ধরনের সহায়তা লাগবে, সে পরিকল্পনা তৈরি করা হবে প্রথম কাজ। তা ছাড়া, কেবল রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারবে না। কাদের সহায়তা দেয়া হবে, এই কাজটি ঠিক করার পর দুটি প্রশ্নের সমাধান করতে হবে।

যেমন অর্থ আসবে কোথা থেকে এবং সেই অর্থ সঠিক মানুষটির কাছে পৌঁছে দেয়ার প্রক্রিয়া কী হবে। যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, তা সংগ্রহ করা খুব সহজ হবে না। কঠোর লকডাউন হলে হয়তো জীবন বাঁচে, আবার ঢিলাঢালা লকডাউনে জীবিকা বাঁচে। এখন জীবন না জীবিকা, কোনটা বাঁচানোর চেষ্টা করা হবে?

জীবন বাঁচানো এবং জীবিকা বাঁচানো— এ দুইয়ের মধ্যে সতর্ক ভারসাম্য রক্ষা করার বড় চ্যালেঞ্জ এখন আমাদের সামনে। সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে, কিন্তু স্থির কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না। কাজটা সহজ নয় মোটেই। গোটা পৃথিবী এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে এক ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছে। আমাদের দেশেও একই অবস্থা। তাই তো লকডাউন, কড়া লকডাউন, কঠোর লকডাউন, সর্বাত্মক লকডাউন ইত্যাদি নানা কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কোনোটাই কার্যকর হচ্ছে না।

জীবন-জীবিকার এ সংকটে ধনী দেশগুলো তাদের নাগরিকদের জন্য যে মাত্রায় সহায়তার ব্যবস্থা করতে পারছে, ততটা করার সুযোগ বাংলাদেশের নেই। আসলে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে জয় পেতে হলে দায়িত্ব নিতে হবে সরকার থেকে জনগণ-সবাইকে। কিন্তু আমাদের দেশে উভয় পক্ষই চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। এখানে সরকারের দিক থেকে পরিকল্পিত উদ্যোগের যেমন অভাব রয়েছে, আবার সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার ইচ্ছারও ভীষণ রকম ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু সামাল দিতে যেভাবে, যা করার কথা ছিলো, যা করা উচিত ছিলো, সেটা সেভাবে আমরা করতে পারছি না।

ফলে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে সংক্রমণ রোধ করাও সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশে প্রতি চারজনে একজন এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে। নজিরবিহীন এ জনস্বাস্থ্য সংকটে এ দরিদ্র মানুষগুলোকে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এ মানুষগুলোর রুটি-রুজির ব্যবস্থা করার জন্য কোনো পরিকল্পিত উদ্যোগ নেই। দিনে এনে দিনে খাওয়া এসব মানুষদের তাই কোনো ধরনের বিধিনিষেধের মধ্যেও আনা যাচ্ছে না। করোনা ভাইরাস মহামারি সরকারকে যেমন একদিকে কঠিন আর রূঢ় বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে, তেমনি এখন নাগরিকদের জীবন ও জীবিকার সমন্বয়ের চেষ্টাও আরেকটি বড় সংকট হয়ে সামনে এসেছে। কাজটা সত্যিই খুব কঠিন। মানুষ ব্যক্তিগত সুরক্ষার নিয়ম কতটা মানছে এবং মানুষকে তা মানাতে সরকার কতটা কী করতে পারছে— তার ওপরই নির্ভর করছে সব।

কিন্তু ভাইরাসের বিস্তার সীমিত রাখতে ব্যক্তিগত সচেতনতাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকরাও সীমাহীন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। আপনি, আমি, আমরা সবাই যদি নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করি, নিজেদের পাশাপাশি অন্যদের সুরক্ষায় যেসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হচ্ছে, সেগুলো যদি মেনে চলি, তাহলে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ থাকবে না।

কিন্তু এ কাজটি দেশের বেশির ভাগ নাগরিকই করছে না। এতে করে ভাইরাসের বিস্তারও কমছে না। এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মানুষের জীবন বাঁচানো, অদূর ভবিষ্যতে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দেবে তাদের কাজে ফেরানো। তার পরবর্তী সময়ের সমস্যা-স্বাভাবিক অর্থনীতিতে ফিরে যাওয়া। আজ আমরা প্রাণ বাঁচাতে যা করছি, তার পরিণাম বড় হতে হতে যেনো ভবিষ্যতে জীবিকা হারানোর কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, তা দেখতে হবে। আসলে বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।

এখন সব দেশের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত অবশ্যই মানুষের জীবন বাঁচানো। কারণ মানুষের জীবনের চেয়ে বড় কিছু নেই। সেই জীবন এখন করোনা ভাইরাসের কারণে বিপন্ন। যতটা সম্ভব নিজেকে একা রাখা, সঙ্গ বর্জন করা, বারবার হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই সবচেয়ে বড় কর্তব্য। যাতে সংক্রমিত লোকের সংস্পর্শে এসে রোগ না ছড়ায়। পাশাপাশি যাদের মধ্যে করোনার লক্ষণ প্রকাশ পাবে, তাদের দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই মুহূর্তে আমাদের চিকিৎসকের কথা শুনতে হবে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। কারণ এর বাইরে কারও হাতে নিরাময়ের অন্য কোনো উপায় নেই। মনে রাখা দরকার যে, বিশ্বজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি চলার পরও কিন্তু থেমে নেই করোনার ভয়াবহ আগ্রাসন ! তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প কিছু নেই। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল। ডাক্তারদের এ ধরনের রোগের চিকিৎসা দেয়ার অভিজ্ঞতা নেই।

আবার চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে ডাক্তার-নার্সরাও নিয়মিত আক্রান্ত হয়ে ছুটিতে থাকছেন। হাসপাতালে বেড নেই, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর নেই। চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা-সরঞ্জাম নেই। অপ্রতুল চিকিৎসাসেবার এই দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়— সেই চেষ্টাও নেই। এদিকে নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তের আয় কমেছে। সামর্থ্যের অভাব এবং ভবিষ্যতের ভাবনায় অনেকে ব্যয়ও কমিয়ে দিয়েছে।

এতে করে সামগ্রিক অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এদিকে নতুন ভ্যারিয়েন্টকে নিষ্ক্রিয় করার ব্যাপারে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়েও রয়েছে, সন্দেহ, প্রশ্ন। আবার ভ্যাকসিনের জোগান নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তাহলে আমাদের বাঁচার উপায় কী? আপাতত একটাই উপায়— তা হলো আমাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হওয়া, স্বাস্থবিধি মেনে চলা।

সর্বোপরি মনে রাখতে হবে, জীবন বনাম জীবিকার কঠিন বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। জীবন এবং জীবিকা দুটিই আমাদের কাছে সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটিই আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কোনো একটির ক্ষেত্রেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ছাড় নিঃসন্দেহে আমাদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.