জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইনে বদলির আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

আগামী ২০২৩ সালের শুরু থেকে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির আবেদন জমা হবে অনলাইনে। আবার বদলি সংক্রান্ত সবকিছু বাস্তবায়নও হবে অনলাইনেই। এতে একদিকে কমবে দুর্ভোগ ও যেকোনো অনিয়মের সুযোগ।

একই সাথে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র শিক্ষক অনুপাতের বাইরে কোনো শিক্ষক চাইলেও তার বদলি যেকোনো স্কুলে নিতে পারবেন না। সবকিছু একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হবে। তবে এর সব কিছুরই সম্ভাব্যতা যাচাই করতে আজ বুধবার গাজীপুরের একটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রাথমিকে শিক্ষক বদলির পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হবে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় আজ এই অনলাইন বদলির উদ্বোধন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গতকাল মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র আরো জানায়, পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই বদলি কার্যক্রম আজ বুধবার সকাল ১০টায় উদ্বোধন করা হবে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: মুহিবুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে গণমাধ্যমকে বলেন, এটাকে বদলি কার্যক্রম শুরু তা বলা যাবে না। তবে বদলি প্রক্রিয়ার শুরুর একটা অংশ (পাইলটিং) বলা যেতে পারে। অনলাইনে কিভাবে আবেদন দেবে, কিভাবে যাচাই-বাছাই হবে ডিজিটালি এই বিষয়টিই দেখা হবে। এখানে অনলাইনে বদলির সুবিধা-অসুবিধাগুলো আমরা দেখব। এরপর সারা দেশে উপজেলা পর্যায়ে বদলি চালু করব।

কবে নাগাদ বদলি কার্যক্রম শুরু হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বুধবার থেকে যে পাইলটিং শুরু হচ্ছে তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারব। আশা করি আগামী বছরের শুরুতে পুরোদমে অনলাইনে প্রাথমিক শিক্ষক বদলি শুরু করা হবে। এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এখনো অনেক উপজেলা আছে যেখানে স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি; কিন্তু শিক্ষকের সংখ্যা কম। আবার অনেক উপজেলায় শিক্ষার্থী অনুযায়ী শিক্ষকের সংখ্যা বেশি।

মূলত এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। যে কারণে শুধু উপজেলার অভ্যন্তরেও ডিজিটাল বদলি চালু করা হতে পারে। তবে জেলাভিত্তিক ও বিভাগীয় পর্যায়ে বদলি চালুর কথা এখনো ভাবছে না অধিদফতর। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন বদলি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি আমরাও অবগত আছি। কিন্তু সুযোগ দিলেই মানুষ এর অপব্যবহার করে। যে কারণে জেলা পর্যায়ে ও বিভাগীয় বদলি বন্ধ থাকবে ও তদবির ঠেকাতে ডিজিটালি বদলির সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

গত দুই বছর শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়া ও এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে প্রতিদিনই বদলির প্রয়োজনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হয়েছেন। কিন্তু বদলি প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় সবাই হতাশ হয়ে ফিরছেন। গত সপ্তাহে এক ভুক্তভোগী ডিপিইতে এসে জানান, আমার স্ত্রী কুষ্টিয়ার একটি প্রত্যন্ত জায়গার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। এখন তিনি হাঁটতে পারেন না।

এই অবস্থায় কিভাবে এত দূরে স্কুল করবে তা জানতে ও বদলির আবেদন নিয়ে অধিদফতরে এসেছি। তবে পুরো সিস্টেম বন্ধ থাকায় কেউ কিছু বলছেন না। এর আগে মহামারী করোনার কারণে দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া চালু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন এক শিক্ষক। নারায়ণগঞ্জ সদরের চর সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তানিয়া আক্তারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া এ নোটিশ পাঠান।

অনেক ভুক্তভোগী শিক্ষক জানান, দুই বছরের বেশি সময় প্রাথমিকে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম বন্ধ। ফেব্রুয়ারিতে অনলাইনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন।

মার্চে বদলি কার্যক্রম শুরুর আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। তবে এখনো এ বিষয়ে কিছুই হয়নি। দীর্ঘদিন বদলি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষক সঙ্কটে আছেন। আগামী বছর বদলি চালু হলে এই সঙ্কট আরো দীর্ঘ হবে বলে মনে করছেন তারা। শিক্ষক নেতা মাহবুবর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাথমিক শিক্ষক বদলির শুরু হতে যাচ্ছে। এতে শিক্ষকরা উচ্ছ্বসিত। তবে এ বদলি নতুন শিক্ষক নিয়োগের আগে হলে শিক্ষকদের জন্য মঙ্গল হতো।