জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই

প্রকাশিত: ৪:১৬ অপরাহ্ণ, শনি, ২৩ অক্টোবর ২১

নিউজ ডেস্ক।।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা বিনির্মাণে শিক্ষার ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সারাদেশে প্রত্যন্ত অঞ্চল, হাওর-বাঁওড় এর গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইনক্লুসিভ এবং হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচ নিয়ে কাজ করবে। এর মধ্যদিয়ে আগামী দিনে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার শ্রেষ্ঠ জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা যেভাবে অতন্ত্র প্রহরীর মতো বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত করতে চান- এই গতি অপ্রতিরোধ্য। এই গতি বিশ্বকে নাড়া দেবে। এই গতি মানবিক বাংলাদেশকে সেই জায়গায় দাঁড় করাবে যেখানে দাঁড়িয়ে আমাদের আগামী প্রজন্ম সাহসিকতার সঙ্গে বলতে পারবে আমি বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার বাঙালির সন্তান। আমরা শিক্ষা ও জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে উচ্চশিক্ষার এই পাদপীঠকে আলোকবর্তিকা হিসেবে পৌঁছে দিতে চাই। এটিই হবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রক্তের ঋণ। এই ঋণ শোধ করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি- বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হউক, যেখানে কেউ প্রতিমার গায়ে হাত দেবে না। কেউ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেবে না। যেখানে ভাই-বোনের সম্মিলনীতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব কিছু ভুলে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষায় আমি বাঙালি এই হবে আমাদের শ্রেষ্ঠ পরিচয়।

এরআগে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং স্নাতক প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর)।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভিসি প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান।

বিশেষ অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সারাদেশের কলেজগুলোতে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও অনেক স্বল্প আয়ের মানুষের সন্তানরাও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছেন। এই সুযোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত না করলে আমাদের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হতো।

আলোচনা সভা শেষে বরেণ্য রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী প্রফেসর ড. রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ফাতেম তুজ জোহরা, কিরণ চন্দ্র রায়সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সঙ্গীত কলেজ, সুরের ধারা কলেজ’র শিল্পীবৃন্দ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, অতিথি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর আবদুস সালাম হাওলাদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ বিভিন্ন দফতরের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন