জনপ্রশাসন পদক পেলেন মো. মিজানুর রহমান

প্রকাশিত: ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, বুধ, ২৮ জুলাই ২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জন প্রশাসন পদক ২০২০ দলগত শ্রেণিতে (সাধারণ) পেলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে কর্মরত উপসচিব এবং নওগাঁ ও ময়মনসিংহ জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান। পিপিপি অনুসরণ করে আধুনিক মানের সুইমিংপুল, জিমনেশিয়াম ও মিনি লাইব্রেরি স্থাপনের জন্য জন প্রশাসন পদক ২০২০ পেয়েছেন।


সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করতে ৩২ জন সরকারি কর্মকর্তা (দলগত ক্ষেত্রের সবাইকেসহ) ও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ২০২১ ও ২০২০ সালের জনপ্রশাসন পদক দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মনোনীতদের কাছে পদক তুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পদক তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।


জন প্রশাসন পদক ২০২০ প্রাপ্ত উপসচিব মো. মিজানুর রহমান বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগে উপসচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ২০১৮ সালে নওগাঁ জেলার জেলা প্রশাসক থাকা অবস্থায় স্থানীয় জনগণের বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সুইমিং পুল নির্মাণ করার কাজ শুরু করেন ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ এবং সুইমিং পুল উদ্বোধন করা হয় ২৭ এপ্রিল, ২০১৯। মাত্র ৩ মাসের মধ্যে একটি প্রজেক্ট কীভাবে সুন্দর ও নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা যায়- এটি তার একটি উদাহরণ।


পরবর্তীতে ২০১৯ সালের জুন মাসে বদলী হয়ে ময়মনসিংহ জেলায় আসার পর নওগাঁর বর্তমান জেলা প্রশাসক হারুণ-অর-রশীদ একই মডেলে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করে পূর্বের জিমনেশিয়ামকে সুন্দর ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেন। এই দলে জন প্রশাসন পদকের জন্য আরো মনোনীত হন নওগাঁর বর্তমান জেলা প্রশাসক হারুণ-অর-রশীদ।
উল্লেখ্য মো. মিজানুর রহমান ডিসি হিসেবে ময়মনসিংহ থাকা অবস্থায় ময়মনসিংহ জেলাকে আধুনিকায়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তিনি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের নিয়ে আইসিটি শিক্ষক ফোরামও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের নিয়ে ক্রিয়েটিভ টিচার্স ফোরাম গঠন করে করোনাকালীন সময়ে শিক্ষকদেরকে করোনা মোকাবেলায় গন সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন ও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেন্। তারই নেতৃত্বে ময়মনসিংহ জেলা আইসিটি শিক্ষক ফোরামের মাধ্যমে ময়মনসিংহ অনলাইন স্কুল নামে সারা দেশের মধ্যে প্রথম (ফেইজবুকে) অনলাইন ক্লাস শুরু হয়। এবং তারই নেতৃত্বে শিক্ষকদের দ্বারা অনলাইন প্রশিক্ষণ শুরু হয় যা বর্তমানেও চাল ‍রয়েছে। তাছাড়া তার নেতৃত্বে সারা দেশের আইসিটি মনা শিক্ষকদেরকে আরো বেশি গতিশীল করতে সেন্টার ফর কুয়ালিটি এডুকেশন বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জনপ্রশাসন পদক ২০২০ প্রাপ্তির পর মহান আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করে নওগাঁ জেলার আপামর জনসাধারণের জন্য এ পুরষ্কার উৎসর্গ করেন।

 

তিনি তার ফেইজবুক পেইজে লিখেন :
জনপ্রশাসন পদক ২০২০ প্রাপ্তিতে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে শোকরিয়া আদায় করছি, আলহামদুলিল্লাহ। টিম নওগাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সাথে সাথে নওগাঁ জেলার আপামর জনসাধারণের জন্য এ পুরষ্কার উৎসর্গ করছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক আগ্রহ ও আন্তরিকতায় সরকারি কর্মচারীদের ভাল ও সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য ২০১৫ সালে জনপ্রশাসন পদক নীতিমালা তৈরী হয় এবং ২০১৬ সাল হতে জনপ্রশাসন পদক প্রবর্তিত হয়।
স্থানীয় জনগণের বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সুইমিং পুল নির্মাণ করার কাজ শুরু করা হয় ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ এবং সুইমিং পুল উদ্বোধন করা হয় ২৭ এপ্রিল, ২০১৯। মাত্র ৩ মাসের মধ্যে একটি প্রজেক্ট কীভাবে সুন্দর ও নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা যায়- এটি তার একটি উদাহরণ। আমার তিন সন্তান এই সুইমিং পুলে সাঁতার কাঁটা শিখেছে। আরও অসংখ্যা নারী, পুরুষ, শিশু এই সুইমিং পুল ব্যবহার করছে। এর সাথে জড়িয়ে আছে আমার ভাললাগা, আবেগ আর অনুভূতি।

পরবর্তীতে ২০১৯ সালের জুন মাসে বদলী হয়ে ময়মনসিংহ জেলায় আসার পর নওগাঁর বর্তমান জেলা প্রশাসক আমার স্নেহের জনাব হারুণ-অর-রশীদ একই মডেলে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করে পূর্বের জিমনেশিয়ামকে সুন্দর ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেন। সুইমিং পুল নির্মাণের সময় চিন্তা করিনি এটির জন্য জনপ্রশাসন পদক পাব। এর পুরো কৃতিত্ব নওগাঁ টেনিস ক্লাবের সন্মানিত সদস্যবৃন্দের। আর পুরো কাজে সমর্থন ও উৎসাহ দেয়ার জন্য সামাজিক ইনোভেশন টিম এবং Walk for Healthy Life & Clean Environment কর্মসূচির সাথে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, যারা নওগাঁর মত একটি স্থানে সুইমিং পুলের প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করতে আমাকে সহায়তা করেছিলেন। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
জনপ্রশাসন পদক পাওয়ার জন্য কাজ করিনি। জেলা প্রশাসক হিসেবে কাজ করার সময় নওগাঁ ও ময়মনসিংহ জেলার মানুষের যে ভালবাসা ও দোওয়া পেয়েছি, তা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পদক। তারপরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রবর্তিত এ পদক প্রাপ্তি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে অধিকতর দক্ষতা, সততা ও আন্তরিকতার সাথে জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করতে আমাকে অনুপ্রাণিত করবে। সকলের দোওয়া ও সহায়তা চাই। সকলকে ধন্যবাদ।

‘জনপ্রশাসন পদক নীতিমালা, ২০১৫ (সংশোধিত-২০১৬)’ অনুযায়ী, জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে দুটি ক্ষেত্রে (সাধারণ ও কারিগরি) শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, শ্রেষ্ঠ দল ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান শ্রেণিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রতি বছর ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস’র অনুষ্ঠান উদযাপনের অংশ হিসেবে এই পদক দেওয়া হয়। প্রতিবছর দিবসটি ২৩ জুলাই পালন করা হলেও করোনার সংক্রমণ ও ঈদের ছুটির কারণে এবার নির্ধারিত তারিখে তা পালন করা যায়নি।
২০১৬ সালের ২৩ জুলাই প্রথমবারের মতো জনপ্রশাসন পদক দেওয়া হয়। জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারপ্রাপ্তরা ১৮ ক্যারেট মানের এক ভরি ওজনের স্বর্ণপদক, সার্টিফিকেট এবং নগদ অর্থ। ব্যক্তিগত অবদানের ক্ষেত্রে স্বর্ণপদক, সার্টিফিকেট এবং জনপ্রতি ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়। দলগত অবদানের জন্য স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র ও নগদ সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
জেলা পর্যায়ে ব্যক্তিগত অবদানের জন্য ৫০ হাজার টাকা ও সম্মাননাপত্র, দলগতভাবে অবদানের জন্য সম্মাননাপত্র ও সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা দেওয়া হয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.