ছাদবাগান এখন গলার কাঁটা

নিউজ ডেস্ক।।

গত কয়েক বছর ধরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নাগরিকদের ছাদবাগান করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছিল। এমনকি ছাদবাগান করলে তাদের হোল্ডিং ট্যাক্সে ১০ শতাংশ ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেন মেয়ররা; কিন্তু এখন সেই ছাদবাগানই গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ছাদবাগানের গাছের টবে পানি জমলেও তা অনেকে নিয়মিত পরিষ্কার করেন না। ফলে সেখানে পানি জমে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার জন্ম হচ্ছে। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ি হওয়ার কারণে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা তা পরিষ্কারও করতে পারছেন না। ফলে ছাদবাগান এখন অন্যতম সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সোমবার নগর ভবনে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। ওই সভায় ডিএসসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: ফজলে শামসুল কবির বলেন, অনেকেই শখ করে ছাদবাগান করছেন, যা এখন আমাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাগানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার ফলে অনেকের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে বলেন, কিউলেক্স মশার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনকে দায়ী করা গেলেও এডিস মশার ক্ষেত্রে তা করা যায় না। কারণ এডিস মশা বাড়িতে জন্মায়। সে জন্য এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সচেতনতা জরুরি। তাই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আমাদেরকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

সভায় দক্ষিণের মেয়র ডেঙ্গু সংক্রমণের জন্য নির্মাণাধীন ভবন ৪০ শতাংশ দায়ী জানিয়ে বলেন, নির্মাণাধীন ভবনগুলো হ১১ পৃ: ২-এর কলামেআমাদের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে। আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি, ক্ষেত্রবিশেষে জরিমানাও করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরও আবাসন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের দৃশ্যমান উদ্যোগ বা কার্যক্রম আমরা দেখছি না। আপনারা যদি এডিস মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি হয় এমন পরিবেশের উন্নতি না করেন, তাহলে আগামী দিনে শুধু জরিমানাই করব না, আপনাদের ভবন নির্মাণ কার্যক্রমই বন্ধ করে দেয়া হবে।

এ সময় মেয়র ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে তিন দিনের পরিবর্তে ‘নিয়মিত প্রতিদিন, জমা পানি ফেলে দিন’ বলে মন্তব্য করেন। মশা নিয়ন্ত্রণে চার মাসের অভিযানে নামছে ডিএসসিসি : মেয়রের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র জানান, এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে আগামী ১৫ জুন থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে, যা চলবে আগামী চার মাস পর্যন্ত।

অভিযানে নেতৃত্ব দিতে মন্ত্রণালয় থেকে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও এ সময়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেবে ডিএসসিসি।

ডিএনসিসিতে ১০ দিনের অভিযান শুরু : এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে গতকাল থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০ দিনব্যাপী অভিযান শুরু হয়েছে। আগামী ২৬ মে পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। গতকাল বিশেষ অভিযান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সেলিম রেজা বলেন, ‘মেয়রের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যেকোনো ভবনে, নির্মাণাধীন বাড়িতে, সরকারি-বেসরকারি বা আধাসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানে এমনকি সিটি করপোরেশনের কোনো অফিসে মশার লার্ভা পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। লার্ভা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরে ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় সাত লাখ পঁচানব্বই হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।