চোখ ওঠলে করণীয় ও বর্জনীয়

অনলাইন ডেস্ক।।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চোখ ওঠার সমস্যা ভালো হয়ে যায় কোনও ধরনের ওষুধ ছাড়াই। তবে বিষয়টি যেহেতু ছোঁয়াচে, তাই হেলাফেলা করা ঠিক নয়। আবার সবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও এক রকম নয়। ফলে কারোর কারোর ক্ষেত্রে ভোগান্তি কিছুটা বেশি হতে পারে। আবার চোখ ওঠা বিষয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে সমাজে। যেমন কারোর চোখ উঠলে তার দিকে তাকানো যাবে না, তাকালে তারও চোখ উঠবে। এটা একেবারেই ভ্রান্ত ধারণা।

চোখ ওঠে কেন?

চার কারণে চোখ উঠতে পারে। অ্যালার্জি, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াল কারণের পাশাপাশি ফাঙ্গাল কারণেও উঠতে পারে চোখ। চিকিৎসার আগে তাই চোখ ওঠার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া খুবই জরুরি। ভাইরাল কারণে চোখ উঠলে সাধারণত এক চোখ আক্রান্ত হয়। এতে চোখ দিয়ে পানি পড়ে, জ্বালাপোড়া করে। তবে ময়লা কম আসে। এটি খুবই ছোঁয়াচে। আবার ব্যাকটেরিয়াল কারণে চোখ উঠলে চোখে ময়লা বেশি হয়। তাই চোখ উঠলে হুট করে ফার্মেসিতে গিয়ে ড্রপ কিনে আনবেন না। চোখ ওঠার কারণ না জেনে এভাবে ড্রপ ব্যবহার করলে চোখের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি।

চোখ উঠলে কী করবেন, কী করবেন না
সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এমনিতেই ভালো হয়ে যায় চোখ ওঠা। তবে যদি এরপরেও উপসর্গ রয়ে যায়, মাথা ব্যথা থাকে কিংবা দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়- তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুদের চোখ উঠলেও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চোখ উঠলে কী করবেন এবং কী করবেন না সেটা জেনে নিন।

১। চশমা, রুমাল, তোয়ালে ও বালিশের কাভার গরম পানি ও ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এগুলো কারোর সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।

২। চোখে হাত দেবেন না। হাত চলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন হাত।

৩। চোখে পানি লাগাবেন না।

৪। কন্টাক্ট লেন্স পরবেন না ও আক্রান্ত চোখে প্রসাধনী দেবেন না।

৫। কালো গ্লাসে ঢেকে রাখতে পারেন চোখ।

৬। এ সময় চোখে চাপ পড়ে এমন কাজ করা যাবে না। যেমন ছোট ছোট লেখা পড়া, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহার করা।

৭। গরম পানিতে পাতলা সুতি কাপড় ভিজিয়ে চোখ পরিষ্কার করবেন। টিস্যু বা কাপড় দিয়ে চোখ পরিষ্কারের পর সেটা অবশ্যই ডাস্টবিনে ফেলে দেবেন।