চীন ও জাপানের রাষ্ট্রদূত বিদায় নিচ্ছেন বাংলাদেশ থেকে

অনলাইন ডেস্ক।।

তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং ও জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বিদায় নিচ্ছেন। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে তারা ঢাকা ছাড়বেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে ঢাকায় আসেন। তিনি ঢাকা মিশনে যোগদানের পর চীনে কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হয়। পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে। বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ মহামারি দেখা দেয়। এরপর চীন থেকে কোভিড-১৯ টিকাও আনে বাংলাদেশে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন লি জিমিং।

লি জিমিং ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশে সফর করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং আই। তার সেই সফরে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তিও সই হয়। লি জিমিং ঢাকায় থাকাকালে চীনের সহায়তায় পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলী টানেলের মতো বৃহৎ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের শেষদিকে রংপুর অঞ্চলে চীনা সহায়তা প্রকল্প পরিদর্শন করেন লি জিমিং। সে সময় তিস্তা নদী এলাকাও ঘুরে দেখেন। তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

এদিকে তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর ঢাকা থেকে চলতি মাসেই বিদায় নিচ্ছেন জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকিও। ২০১৯ সালের অক্টোবরে ঢাকা মিশনের দায়িত্ব নেন তিনি। শিরু থেকেই ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

তার মেয়াদকালে ঢাকায় জাপানের সহায়তায় মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প, আড়াই হাজারে জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ইত্যাদি প্রকল্পের বিশেষ অগ্রগতি হয়েছে।

চলতি বছর বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীতে বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠান পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন ইতো নাওকিও। চলতি বছর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের আয়োজনেও ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত জাপানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কোভিড-১৯ বেড়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর স্থগিত করা হয়।

দায়িত্ব পালনের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে বাংলাদেশের বিগত জাতীয় নির্বাচনের ভোট নিয়ে মন্তব্য করে আলোচিত সমালোচিত হন রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। এতে বাংলাদেশ সরকারও বিব্রত হয়। তবে পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, জাপানি রাষ্ট্রদূত সাদাসিঁধেভাবে ওই মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও দুষ্টু লোকের ভুল তথ্যে তিনি কথা বলেছেন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ঢাকা থেকে যাওয়ার আগে চীন ও জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে বিদায়ী সাক্ষাৎ শুরু করেছেন। উভয়েই নিজ নিজ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামীতে আরও গভীর ও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা করেছেন।