চলতি বছর থেকে প্রাথমিকে বার্ষিক পরীক্ষা ৬০ নম্বরে

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

পঠন ও লিখনের বাইরে এবার প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাই ও অন্যান্য বিষয়ের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই চলতি বছরের বার্ষিকে লিখিত পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে ৬০ নম্বরে। বাকি ৪০ নম্বর থাকবে শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দক্ষতা যাচাইয়ের ওপরে।

সূত্র মতে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এ বছর থেকেই সব শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিষয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হবে ৬০ নম্বরে। আর ক্লাস টেস্ট থেকে ৪০ নম্বর যুক্ত হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মোট ১০০ নম্বরের তিনটি বিষয়ে এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঁচটি বিষয়ে বার্ষিক মূল্যায়ন হবে। এসব ক্লাসটেস্টে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, জ্ঞানের প্রয়োগ, শোনা, বলা, পড়া ও লেখার দক্ষতার পরিমাপ হবে। দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই দিনে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। এভাবেই খুদে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক মূল্যায়ন করতে বলেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। যদিও বর্তমানে প্রতি বিষয়ে ১০০ নম্বরের অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হয়।

সম্প্রতি মূল্যায়নপদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা এ নির্দেশনা অধিদফতরে পাঠিয়েছি। তিনি জানান, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। তার আগে শিক্ষার্থীদের প্রচলিত পরীক্ষাপদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের আগেই আমরা এনসিটিবির মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নপদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন এনেছি। শ্রেণী পরীক্ষার নম্বর ও তৃতীয় প্রান্তিক বা বার্ষিক পরীক্ষার নম্বর নিয়ে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক মূল্যায়ন করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অধিদফতরে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলা, ইংরেজি ও গণিত- এ তিনটি বিষয়ের ওপর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর এবং বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এ পাঁচটি বিষয়ের ওপর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন হবে। প্রতিটি বিষয়ের কমপক্ষে পাঁচটি শ্রেণী পরীক্ষা নিতে হবে শিক্ষকদের। প্রতিটি শ্রেণী পরীক্ষার নম্বর হবে ২০। এ পাঁচটি শ্রেণী পরীক্ষার প্রাপ্ত মোট নম্বরের ৪০ শতাংশ ও তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষার ৬০ নম্বর-এ মোট ১০০ নম্বরে খুদে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক মূল্যায়ন হবে। এভাবে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতির সমন্বিত প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে শিক্ষকদের। এরপর বিদ্যালয় অভিভাবকদের হাতে ফল তুলে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হলে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা থাকবে না, ধারাবাহিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এর আগে চলতি বছর অর্থাৎ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক মূল্যায়নে নতুন এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ইতোমধ্যে বিভাগীয় উপপরিচালকদের পাঠিয়েছে।