গবেষণা ও শিক্ষার মান বাড়াতে হবে

প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ণ, শনি, ২৮ নভেম্বর ২০

>>> ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং নিয়ে আলোচনা পুরোনো হলেও এবারের মাত্রা ভিন্ন। প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়টি এবার শতবর্ষে পা দিয়েছে। সম্প্রতি এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কিউএস র‌্যাঙ্কিং প্রকাশের পর শুক্রবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেল, ‘দেশে সেরা ঢাবি তবে এশিয়ায় ১৩৪তম’। দেশে সেরা হলেও অন্যান্য দেশের তুলনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের বার্তা স্পষ্ট। আমরা মনে করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তো বটেই, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজেদের প্রমাণ করার সামর্থ্য রাখে। আমরা জানি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা, উদ্ভাবন, চাকরিতে স্নাতকদের কর্মক্ষমতা, সামাজিক প্রভাব, একাডেমিক খ্যাতি, অনুষদ সদস্যদের গবেষণা প্রকাশনা, পিএইচডি ডিগ্রি ইত্যাদির ভিত্তিতে এই র‌্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়। এগুলোর দিক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন না করা দুঃখজনক। এ ক্ষেত্রে গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, এ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণার মান ধরে রাখতে না পারায় বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে স্থান করে নিতে পারছে না। অথচ এ বছরের বাজেটে আমরা দেখেছি, গবেষণায় বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই বাজেটের পর জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে এই সম্পাদকীয় স্তম্ভে আমরা লিখেছিলাম- ‘গবেষণাহীন ধূসর গন্তব্য’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়টি যে দেশের সব ক্রান্তিকালে ত্রাতার ভূমিকা পালন করেছে, তাও অনস্বীকার্য। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি যদি তার প্রধান কাজ জ্ঞান সৃষ্টি তথা শিক্ষা ও গবেষণায় যথাযথ অবদান রাখতে না পারে, সে ক্ষেত্রে এভাবেই আমাদের পিছিয়ে থাকতে হবে। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকাও অনন্য। নিজেদের গবেষণায় নিয়োজিত রাখা ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কাজ। কোনো কোনো শিক্ষক লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত হওয়ায় গবেষণা থেকে দূরে সরে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আমরা মনে করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হূত গৌরব ফেরাতে এবং একই সঙ্গে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন ও শিক্ষকদের সদিচ্ছাই যথেষ্ট। আমরা জানি, শতবর্ষ পদার্পণ উপলক্ষে ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। এই মাস্টারপ্ল্যানে পরিকল্পিত এবং বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক ও নান্দনিক ক্যাম্পাস তৈরির নির্দেশনা ও প্রস্তাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আবাসিক চাহিদা মেটানো, আন্তর্জাতিক মানের লাইব্রেরি সুবিধা প্রদান, আধুনিক জিমনেশিয়াম নির্মাণ, মানসম্মত মেডিকেল সেন্টার স্থাপন ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, এই মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও জ্ঞানাজর্নের পথ প্রশস্ত হবে, যা ভবিষ্যতে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানজনক অবস্থান সৃষ্টি করবে। উদ্ভাবন ও গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে আছে।

তার মানে এই নয় যে, আমাদের সক্ষমতার অভাব রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের গবেষক ও শিক্ষকদের গবেষণার খ্যাতি আমরা দেখেছি। বস্তুত অনেকেই অভিযোগ করেছেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অসুস্থ ধারার রাজনীতির কারণে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের পরিবেশ খারাপ হচ্ছে। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদদেরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় রয়েছে। প্রায় ১০০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে অনেক দিয়েছে; কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি জাতি আরও অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। জনগণের টাকায় যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়, সেখানে উদ্ভাবনসহ অন্যান্য সেবার মাধ্যমে সমাজের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় তার দায়িত্ব পালন করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানজনক অবস্থানের স্বপ্ন পূরণে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্নিষ্ট সবাই সচেষ্ট হবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌরভ-গৌরব ১০০ বছরে যতটা ছড়িয়েছে, আগামীতে তা আরও ছড়াবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশ ও জাতির জন্য আরও তাৎপর্যময় ভূমিকা পালন করবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা

শিক্ষাবার্তা/ বিআ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.