খরচ কম করেন, তবে বন্ধ করা যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং ব্যয় কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খরচ কম করেন। তবে খরচ বন্ধ করা যাবে না। একান্ত প্রয়োজনীয় ব্যয় করতেই হবে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব অনুশাসন দেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রকল্পগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এবং পরিকল্পনা সচিব সত্যজিত কর্মকার।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, কিশোরগঞ্জে উড়াল সড়কসহ ১১ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৬৮৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭ হাজার ৮২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২ হাজার ৮৮০ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী একই সাথে কাজের মান বাড়াতে বলেছেন। এ ছাড়া উৎপাদন বাড়াতে হবে। যে যেখানে, যেভাবে আছেন তাদের কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ইভিএম আমাদের তালিকায় ছিল না। প্রধানমন্ত্রীও জানতে চাননি। এটি আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন আছে। যদি এটি অনুমোদন না হয় তবে সংশ্লিষ্টরা দেখবেন। এটি আমার আওতায় নেই।
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে একনেক বৈঠকে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি খুব খারাপ নয়। এ ক্ষেত্রে রিজার্ভ গত ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। সেটি স্থিতিশীল আছে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রফতানি থেকে এসেছে ২৭ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ২৪ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। ফলে রফতানি আয়ও বেড়েছে ২ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া এ অর্থবছর ১০ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছর একই সময়ে যা ছিল ১০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। দেশে মূল্যস্ফীতি কমেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো বিশ্বমন্দার ঢেউ বাংলাদেশে লাগবে না। উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সঙ্কটের সময় মিঠামইনে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের অনুমোদন কতটা যৌক্তিক ছিল জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব সত্যজিত কর্মকার বলেন, বৈশ্বিক যে সঙ্কট এটি সাময়িক। কিছু দিন পরে এই সঙ্কট আর থাকবে না। আমরা দীর্ঘ পরিকল্পনা সামনে রেখে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দিয়েছি।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, ১৩৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শ্রীমাই নদীতে এলিভেটর ড্যাম নির্মাণ, ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল জেলার কারখানা বিঘাই এবং পায়রা নদীর ভাঙন থেকে শেখ হাসিনা সেনানিবাস এলাকা রক্ষা প্রকল্প, ৫২৮ কোটি টাকা বর্ধিত ব্যয়সহ ২ হাজার ১১ কোটি ৩১ লাখ টাকায় ঢাকা জেলার দোহার উপজেলাধীন মাঝিরচর থেকে নারিশাবাজার হয়ে মোকসেদপুর পর্যন্ত পদ্মা নদী ড্রেজিং ও বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প, ৭৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় ছোট দ্বীপ এবং নদীর চরের জন্য অভিযোজন উদ্যোগ প্রকল্প, ৩৬৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা বর্ধিত ব্যয়সহ এক হাজার ২৫ কোটি টাকায় মাতারবাড়ী কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণ, ৩১৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা বর্ধিত ব্যয়সহ ১০ হাজার ৬৯০ কোটি টাকায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ, ৫ হাজার ৬৫১ কোটি ১৩ লাখ টাকায় কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা সদর থেকে করিমগঞ্জ উপজেলার মচিখালি পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মাণ, ৯২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বর্ধিত ব্যয়সহ ৭৭৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকায় এস্টাবলিশমেন্ট অব মেরিটাইম ডিজট্রিজ অ্যান্ড সেফলি সিস্টেম অ্যান্ড ইন্টেগ্রেটেড মেরিটাইম নেভিগেশন সিস্টেম প্রকল্প, ২ হাজার ২১০ কোটি ৭০ লাখ টাকায় বাংলাদেশে ২৫টি শহরে অন্তর্ভুক্তিমূলক স্যানিটেশন প্রকল্প, ৪৯১ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডপটেড আরবান ডেভলপমেন্ট পেজ-২ খুলনা প্রকল্প, ১৪২ কোটি ২১ লাখ টাকা বর্ধিত ব্যয়সহ ২ হাজার ১৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকায় ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্প।