ক্লাস রুটিন প্রকাশ করবে অধিদপ্তর

প্রকাশিত: ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ৭ সেপ্টেম্বর ২১

নিউজ ডেস্ক।।

দীর্ঘ বিরতির পর স্কুল-কলেজ খুলছে আগামী রবিবার। এরই মধ্যে ১৯ দফা নির্দেশনাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার গাইডলাইন প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। সরকারের গাইডলাইন অনুসারে স্কুল-কলেজ খোলার আয়োজন চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নির্দিষ্ট দূরত্বে বেঞ্চ রাখা, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করাসহ নানা কাজ চলছে। তবে স্থাস্থ্যবিধি মানতে এক শ্রেণির শিক্ষার্থীকে কয়টি ভাগে ভাগ করতে হবে সে ব্যাপারেও চলছে হিসাব-নিকাশ। সে অনুযায়ী ক্লাসরুম প্রস্তুত করা হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার শুরুতে ২০২১ ও ২০২২ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ছয় দিন ক্লাস হবে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও একাদশ শ্রেণির ক্লাস চলবে সপ্তাহে এক দিন। ফলে এই ক্লাসগুলোর শিক্ষার্থীরা বাকি দিনগুলোতে কিভাবে পড়ালেখা করবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকরা।

তবে শিক্ষা প্রশাসন বলছে, স্কুল-কলেজ খুললেও অনলাইন ক্লাস চালু থাকবে। টেলিভিশনেও প্রচার করা হবে ক্লাস। এ ছাড়া কোনো রকম সমন্বয়হীনতা যাতে না হয় সে কারণে কোন শ্রেণির ক্লাস কবে হবে, সেই রুটিন প্রকাশ করবে মাউশি অধিদপ্তর ও ডিপিই।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রতন চন্দ্র পণ্ডিত বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস ছয় দিন হবে। বাকিদের ক্লাস হবে সপ্তাহে এক দিন। এই শ্রেণিগুলোর জন্য বাকি পাঁচ দিন টেলিভিশনে ক্লাস প্রচার করা হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের যে ওয়ার্কশিট (অ্যাসাইনমেন্ট) দেওয়া হচ্ছে, তা-ও চলমান থাকবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে যত ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন তার সবই আমরা করব।’

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘গাইডলাইন অনুযায়ী স্কুলগুলো কতটুকু প্রস্তুত হচ্ছে, তা আমরা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এ ছাড়া কোন শ্রেণির ক্লাস কবে হবে, সে রুটিনও আমরা দু-এক দিনের মধ্যে অধিদপ্তর থেকে প্রকাশ করব। আর যেসব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে এক দিন সরাসরি স্কুলে আসবে, তাদের জন্য বাকি পাঁচ দিন টেলিভিশন ও অনলাইন ক্লাস চলমান থাকবে।’

তবে স্কুল খুলে দেওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি বজায় রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন অভিভাবকরা। বিশেষ করে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশি শিক্ষার্থী হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়বে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্কুলে ২৮ থেকে ৩০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। রয়েছে একাধিক ক্যাম্পাস। বিশেষ করে স্কুলে ঢোকার সময় ও ছুটির সময় সাধারণত হুড়োহুড়ি সৃষ্টি হয়। মোট শিক্ষার্থীর তিন ভাগের এক ভাগকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আনা হলে এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মানা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার গাইডলাইনে বলা হয়েছে, তিন ফুট দূরত্বে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চগুলোকে বসাতে হবে। পাঁচ ফুটের কম দৈর্ঘ্যের বেঞ্চে একজন শিক্ষার্থী এবং পাঁচ থেকে সাত ফুট দৈর্ঘ্যের বেঞ্চে দুজন শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস করতে পারবে। স্কুলে ঢোকার আগেই থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে। হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। ওয়াশরুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরে স্কুলে আসতে হবে।

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ২৮ হাজার ছাত্রী অধ্যয়নরত। বেইলি রোডের মূল ক্যাম্পাস ছাড়াও রাজধানীর ধানমণ্ডি, আজিমপুর ও বসুন্ধরায় তাদের তিনটি ক্যাম্পাস রয়েছে। এমনকি এই স্কুলের একটি ক্লাসে ১৩০ থেকে ১৪০ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিলে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী। কলেজ শাখা শুধু মেয়েদের। মতিঝিলের মূল ক্যাম্পাস ছাড়াও বনশ্রী ও মুগদায় তাদের দুটি শাখা ক্যাম্পাস রয়েছে। মিরপুরের মনিপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৩৫ হাজারের কাছাকাছি। মনিপুরে মূল বালক ও মূল বালিকা শাখা ছাড়াও রূপনগর, শেওড়াপাড়া ও ইব্রাহিমপুরে তিনটি শাখা ক্যাম্পাস রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ক্লাসেই একাধিক শাখা। প্রতিটি শাখায়ই গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয়। এখন এসব প্রতিষ্ঠানে কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুন নাহার বলেন, ‘গাইডলাইন অনুসারে আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছি। একটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের একাধিক ক্লাসে বসানো হবে। একটি ক্লাসের ছুটির কমপক্ষে এক ঘণ্টা পর আরেকটি ক্লাসের ছুটি হবে। এতে ছাত্রীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল থেকে বের হতে পারবে। আমরা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রতিদিন একাধিকবার মিটিং করছি। সে অনুযায়ী প্রতিটি শাখায় কাজ চলছে।’ তিনি আরো বলেন, অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। তাঁরা আগে থেকে তাঁদের সন্তানদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করবেন, যাতে স্কুলে এসে তারা তা পালন করতে পারে।

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, ‘স্কুল-কলেজ খোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রতিটি স্কুল-কলেজে কমিটি গঠন করতে হবে। তাদের কঠোরভাবে মনিটর করতে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করতে হবে। এ ছাড়া ১২ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকার আওতায় আনারও দাবি জানাচ্ছি।’

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.