ক্লাসরুমে ক্ল্যাশ

প্রিন্স আশরাফ।।

আঠাশ.
এর পরপর সজীবে স্কুলের ছুটির ঘণ্টা শুনতে পেল। আজকের মতো স্কুল বন্ধ করে দিয়ে সবাই চলে যাচ্ছে। ছেলেমেয়েদের বাড়ি যাওয়ার হৈহুল্লোড়ের শব্দে সজীবের মন কেঁদে উঠল।

যখন বুঝতে পারল তার উদ্ধারের আর কোনো আশা নেই, সে উঠে দাঁড়াল। আস্তে আস্তে সজীবের ভয় কেটে যেতে লাগল। সে ঘুরে ঘুরে সব দেখতে থাকল। বাইরে থেকে প্রথমে আছরের, তারপর মাগরিবের আজান শুনল। হাতের রেডিয়াম ঘড়ি দেখে বুঝতে পারল রাত নেমে গেছে। খিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে। আজ টিফিন করা হয়নি। ব্যাগটাও ডেস্কে রয়ে গেছে। ব্যাগের মধ্যে ওয়াটার বোতল। একটু পানির জন্য বুক ফেটে যাচ্ছে।

পানির খোঁজে সজীব চোখ সয়ে আসা আলোয় ল্যাবের চারদিকে তাকাল। অনেক জার ভর্তি তরল আকৃতির কিছু দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ওগুলো হয়তো কেমিক্যালই হবে। ফরমালিন টালিন জাতীয় কিছু।

পানযোগ্য নয়। টেবিলের শেষ মাথায় একটা বুনসেন বার্নার দেখতে পেল। পাশে একটা স্টোভ। সজীব পায়ে পায়ে হেঁটে প্রায়ান্ধকারে হোঁচট বাঁচিয়ে টেবিলের কাছে এলো। স্টোভ আর বার্নার যখন আছে তখন নিশ্চয় কোথাও একটা দিয়াশলাই আছে। সে টেবিলের ওপর হাতড়াল।

কিছু নেই। ড্রয়ার দেখা যাচ্ছে। লক করা কিনা কে জানে? ড্রয়ার টেনে খুলল। ড্রয়ার খোলার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দে নিজেই ভয়ে চমকে উঠল। অন্ধকারে ড্রয়ারের ভেতরে হাত দিতে সাহস হচ্ছে না। সাপ বিচ্ছু চেলা কিছু থাকতে পারে। কিন্তু না হাতড়িয়েও উপায় নেই।
(চলবে)