ক্রেতা নেই সঞ্চয়পত্রে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেয়ার অন্যতম মাধ্যম সঞ্চয়পত্র বিক্রি। এর মাধ্যমে জনগণ থেকে সরাসরি ঋণ নেয় সরকার। একই সঙ্গে সরকারি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পায় সাধারণ মানুষ। ব্যাংকের তুলনায় বেশি সুযোগ-সুবিধা এবং ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হওয়ায় স্বল্প সময়ে এটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু সুদহার কমানো, ক্রয়সীমা নির্ধারণ ও বেশ কিছু শর্তের বেড়াজালে হঠাৎ সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ধস নেমেছে। অর্থবছরের প্রথম থেকেই সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে মন্দাভাব দেখা যায়।

এর ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (মার্চ পর্যন্ত) বিক্রির পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকে নেমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুসারে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে অভ্যন্তরীণ এ উৎস থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ১৬ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। যা গত ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ের (জুলাই-মার্চ) পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি টাকা।

অন্যদিকে আগের অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হলেও চলতি অর্থবছরে লক্ষ্য অর্জনে বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি পূরণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু মার্চ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ৯ মাসে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। অথচ গত ২০২০-২১ অর্থবছরের মূল বাজেটে ২০ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও সরকার শেষ পর্যন্ত ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা ঋণ নেয়।

জানা গেছে, মার্চ পর্যন্ত সময়ে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট তিন লাখ ৬০ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে প্রতি মাসে গড়ে সুদ পরিশোধে খরচ হচ্ছে প্রায় তিন হাজার ৩১০ কোটি টাকা। তাছাড়া মেয়াদ পূর্তি বা অন্য প্রয়োজনে অনেক গ্রাহক নগদায়ন করছেন। আবার সুদহার কমানো হয়েছে ১৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রে। আর একক গ্রাহকের ক্রয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কারণে গ্রাহক নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছেন না। তাছাড়া সঞ্চয়পত্র কেনায় টিআইএন ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এখন বাধ্যতামূলক। এসব নানাবিধ কারণে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি কমছে। যদিও এখনো ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি সুদ পাওয়া যায় সঞ্চয়পত্রে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চে নিট এক হাজার ৮১৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। যা ২০২১ সালের একই মাসে এর পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৮৯১ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিক্রি হয়েছিল দুই হাজার ৫২৩ কোটি এবং জানুয়ারি মাসে দুই হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি বছরের প্রতি মাসেই ধারাবাহিকভাবে বিক্রি কমেছে।