কোরবানির পশু কেনা নিয়ে সংশয়ে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা

শামসুজ্জোহা সুজন।।

ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে কোরবানি দেয়ার জন্য ঠিকঠাক মতো পশু কিনতে পারবেন কিনা তা নিযে সংশয়ে রযেছেন দেশের কয়েক লাখ এমপিও ভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী। তাদের অবস্থা ‘ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেল’ বাক্যের মতোই। ডাক্তার আসতে বিলম্ব হওয়ার কারণে রোগী যেমন মারা যায় ঠিক তেমনি ঈদের কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে বেতন-বোনাসের টাকা হাতে না পাওয়ার কারণে কয়েক লাখ এমপিও ভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর ঈদ-উল-আযহা তথা কোরবানির আনন্দ মাটি হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে।

অতীতের বেতন বোনাস প্রদানের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে এমপিও ভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস ঈদের আগে এমন সময় ছাড় করা হয়েছে যখন তাদের পক্ষে ঈদের আগে বেতন-বোনাসের টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করাটা সম্ভব ছিল না। যদিও টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হছেয়ে তবে সেই টাকা দিয়ে পরিবার পরিজনের জন্য পছন্দমতো কেনাকাটা করার পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পাননি তারা।

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এবারের ঈদ-উল-আযহা তথা কোরবানির আনন্দ কিভাবে মাটি হয়ে যেতে পারে চলুন দেখে নেয়া যাক-আগামী ১০ জুলাই (চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে) ঈদ-উল-আযহা অনুষ্ঠিত হবে। ধরে নেয়া যাক ৩০ জুন বৃহস্পতিবার বেতন-বোনাসের চেক ছাড় করা হবে যদিও সে সম্ভবনা ক্ষীণ। জুলাই মাসের ১, ২, ৮ ও ৯ তারিখ যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার। এই চারদিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-বোনাসের টাকা ব্যাংক থেকে তোলার জন্য পাঁচ দিন সময় পাচ্ছেন। পাঁচ দিন তো অনেক সময়!
আসলে পাঁচ দিন খুবই অল্প সময়। আসুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে তা অল্প সময়। বেতন বোনাসের অর্থ ছাড় হওয়ার পর উপজেলা পর্যায়ের ব্যাংকগুলো বলবে স্মারক নম্বর আসেনি। স্মারক নম্বর না পাওয়ায় কেটে যাবে কমপক্ষে দুই দিন। এরপর বলবে স্মারক নম্বর এসেছে কিন্তু ফান্ড (নগদ টাকা) পাওয়া যায়নি। ফান্ড এসে পৌঁছাতে পৌঁছাতে কেটে যাবে নুন্যতম আরো দুই দিন। শহরে এই সমস্যা কিছুটা কম হলেও উপজেলা পর্যায়ে এই সমস্যাগুলো অনেক বেশি।

এছাড়া এমপিও ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির স্বাক্ষর ছাড়া বেতন-বোনাস উত্তোলন করতে পারেন না। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ রাজনৈতিক দলের বড়বড় নেতা। তারা সব সময় ব্যস্ত থাকেন। তাদের ব্যস্ততা ও স্মারক নম্বর না থাকার কারণে বেতন-বোনাসের কাগজপত্র স্বাক্ষর হতে অন্তত আরো দুই দিন লেগে যাবে। সরকারি ছুটির দিন বাদ দিয়ে হিসাব করলে দেখা যাবে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে।

সবকিছু গুছিয়ে নিতে নিতে ঈদের ছুটি শুরু হয়ে যাবে। ফলে এবারের ঈদের আগে বিপুলসংখ্যক এমপিও ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষে তাদের বেতন-বোনাসের টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হবেনা। আর একেবারে অন্তিম সময়ে বেতন-বোনাসের টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হলেও ঈদ-উল-আযহায় কোরবানি দেয়ার জন্য কোরবানির পশুটি ঠিকমতো দেখেশুনে কিনতে পারবেন না বা কেনার সময় ও সুযোগ পাবেন না বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা।
আর তাই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত¦ চার বাণিজ্যিক ব্যাংক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি এমপিও ভুক্ত কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন তাদের ঈদ আনন্দ বাঁচিয়ে রাখতে প্রত্যেক ঈদের কমপক্ষে পনেরো দিন আগে বেতন-বোনাস প্রদানের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ‘ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেল’ অবস্থা থেকে মুক্তি প্রদান করুন।