কোন আপেলে পুষ্টিগুণ বেশি, লাল না সবুজ?

নিউজ ডেস্ক।।

সারা বছর জুড়ে বাজারে পাওয়া যায় এমন ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আপেল। প্রবাদ আছে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি করে আপেল থাকলে নাকি ডাক্তার থেকে দূরে থাকা যায়। এ কারণে হয়তো চিকিৎসকরাও যে কোনো বয়সে আপেল খেতে বলেন। সাধারণত বাজারে দুই রঙের আপেল পাওয়া যায়, লাল ও সবুজ। এখন প্রশ্ন হলো- এ দুটোর মধ্যে কোন আপেল বেশি স্বাস্থ্যকর?

লাল আপেল ও সবুজ আপেলের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে?

সবুজ আপেলের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি জনপ্রিয় লাল আপেল। এর কারণ, লাল আপেল স্বাদে কিছুটা মিষ্টি। এর খোসা অনেক পাতলা। আবার মোটামুটি শহর, বন্দর, গ্রাম-সবখানেই এটি পাওয়া যায়।

অন্যদিকে সবুজ আপেল মিষ্টি নয়, বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে খানিকটা টক স্বাদেরও বটে। লাল আপেলের মতো এটি সহজলভ্যও নয়। আবার এর খোসাও তুলনামূলকভাবে বেশি পুরু। এ কারণে স্বাদে অনেকেই এগিয়ে রাখেন লাল আপেলকে।

পুষ্টিগুণ কার বেশি, লাল না সবুজ?

পুষ্টিগত দিক থেকে লাল ও সবুজের আপেলের পার্থক্য বেশ কয়েক জায়গায়। প্রথমত, লাল আপেলে কার্বোহাইড্রেট বেশি, ফাইবার বা আঁশ কম। অন্যদিকে সবুজ আপেলে কার্বোহাইড্রেট কম, ফাইবার বেশি। তাই যারা একটু কম ক্যালরির আপেল খেতে চান, তাদের জন্য সবুজ আপেল নিঃসন্দেহে উত্তম পছন্দ। তবে এই পার্থক্যের পরিমাণ সামান্য। তাই লাল আপেল খেলে ওজন বেড়ে যাবে, এ রকম ভাবার কোনো কারণ নেই।

দ্বিতীয় যে পার্থক্যটা আসে সেটা হলো অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে। সবুজ আপেলে পেকটিন, কোয়ারেকটিন ও ফ্ল্যাভোনয়েড এই দারুণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো থাকলেও, লাল আপেলে পরিমাণটা বেশি। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের কোষের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি কোষের অক্সিডেশন বা জারণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে কোষ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।

শুধু তাই নয়, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার আমাদের শরীরের ফ্রি র‍্যাডিক্যাল কমিয়ে দেহ থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এতে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

কোষের স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায় বলে ত্বকও থাকে তারুণ্যোজ্জ্বল। তাই আপনি যদি একটু বেশি পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পেতে চান, তাহলে লাল আপেলকেই বেছে নিন।

লাল আপেল আর সবুজ আপেলের মধ্যে পুষ্টিগত দিক থেকে আরও একটি বড় ফারাকের জায়গা হলো ভিটামিন এ। লাল আপেলের তুলনায় সবুজ আপেলে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ বেশি ভিটামিন এ আছে। ভিটামিন এ আমাদের চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।

ভিটামিন এ ছাড়া লাল আপেল আর সবুজ আপেলের পুষ্টিগুণ প্রায় কাছাকাছি। বাকি পার্থক্যগুলো সামান্য। ভিটামিন এ বেশি থাকায় সবুজ আপেল দৃষ্টিশক্তি উন্নত, হাড়ের শক্তি বাড়ানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কাজে বেশি উপকারী। তবে সবুজের থেকে লাল আপেল বেশি পাওয়া যায় বলে এটিই বেশি খাওয়া হয়ে থাকে।

তবে লাল আপেল খেলেও উপকার কিন্তু কম পাবেন না। এ কারণে হাতের কাছে যেটা পান সেই আপেলই খেয়ে নেবেন। তবে লক্ষ্য রাখবেন আপেল যেন টাটকা হয়। আর হ্যাঁ, খাওয়ার আগে অবশ্যই ফলটি ভালোমতো ধুয়ে নেবেন।