কেন পদত্যাগ করছেন বিএনপির এমপিরা, কিভাবে কার্যকর হবে

 নিউজ ডেস্ক।।

বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকার গোলাপবাগ মাঠের গণসমাবেশ থেকে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন দলটির নেতারা।

একাদশ জাতীয় সংসদে ৩৫০ আসনের মধ্যে বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। এরমধ্যে একজন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি।

তারা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবদুস সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ, বগুড়া-৬ আসনের গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান জাহিদ ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের রুমিন ফারহানা। দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া হয়েছে বলে তারা জানান।

কেন পদত্যাগের ঘোষণা
সমাবেশে জি এম সিরাজ প্রথম তাদের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পরে সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় রুমিন ফারহানা জানান, তারা ইতোমধ্যে ই-মেইলে তাদের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। আগামীকালের (রোববার) মধ্যে তারা সংসদে তাদের সই করা পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, তারা এই অবৈধ সংসদে আর প্রতিনিধিত্ব করবেন না এবং জনগণের দাবি পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে রাজপথে থেকে ভূমিকা রাখবেন।

তিনি বলেন, ‘এই সংসদে থাকা আর না থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই। যেই সংসদ বিনা ভোটের সংসদ, যেই সংসদ ভোট চোরের সংসদ; যেই সংসদে সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলা যায় না, সেই সংসদে থাকার কোনো প্রয়োজন মনে করি না।’

অন্যদিকে জি এম সিরাজ বলেছেন, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি আর সংসদে যাবে না।

তবে এমপি হারুন অর রশিদ দেশের বাইরে থাকায় তিনি ই-মেইলে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন।

সমাবেশে বিএনপি নেতারা জাতীয় পার্টির এমপিদেরও পদত্যাগের আহ্বান জানান।

এ নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, ‘আমাদের সাতজন এমপি পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদের বলব, আপনারাও পদত্যাগ করুন। পদত্যাগ করে জনগণের কাতারে চলে আসুন।’

বিএনপি নেতারা এর আগেও দলীয় এমপিদের পদত্যাগের বিষয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন।

তারা মনে করেন, বিএনপি যেখানে শুরু থেকে সংসদ বিলুপ্ত করার দাবি জানাচ্ছে, সেখানে জাতীয় সংসদে তাদের দলের এমপিদের থাকাটা স্ববিরোধী।

এর আগে এক অনুষ্ঠানে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, বিএনপির এমপিরা সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বিগত নির্বাচনে বিএনপির ছয়জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরমধ্যে মির্জা আলমগীর বগুড়া–৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও তিনি শপথ নেননি।

নির্ধারিত সময়ে শপথ না নেয়ায় তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে পুনঃনির্বাচন হয়। পরে সেখানে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী জি এম সিরাজ।

পদত্যাগপত্রের ব্যাপারে কিছু জানেন না ডেপুটি স্পিকার
তবে বিএনপির সাত সংসদ সদস্যের পদত্যাগের বিষয়ে এখনো কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন না জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার সামসুল হক টুকু।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য তাদের পদত্যাগপত্র ই-মেইল করেছে কিনা, তারা পদত্যাগ করেছে কিনা এখনো আমার নলেজে এসব কিছু আসে নাই।’

তাছাড়া শনিবার কার্যালয় বন্ধ থাকায় সংসদীয় সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।

সামসুল হকের মতে, একটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যেমন ব্যক্তি বা দলের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা আবার নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন কারণে পদত্যাগ করাও তার স্বাধীনতা।

এদিকে বিএনপির এমপিদের এই পদত্যাগের ঘোষণা জাতীয় সংসদে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা সাতজন চলে গেলে সংসদে কোনো প্রভাব পড়বে, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। এ নিয়ে বিএনপিকে পরে অনুতাপ করতে হবে।’

একই সমাবেশে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘আপনাদের পদত্যাগের গণতান্ত্রিক অধিকার আছে। কিন্তু, পদত্যাগ করতে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়, মাঠে নয়।’

সংসদ থেকে পদত্যাগের নিয়ম
জাতীয় সংসদ থেকে কোনো সংসদ সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে তাদের সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি এবং সংবিধানের ধারা অনুসরণ করতে হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ৬৭-এর ২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সংসদ সদস্য স্পিকারের কাছে তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে নিজ এমপি পদ ত্যাগ করতে পারবেন।

তবে স্পিকার কিংবা স্পিকারের পদ শূন্য থাকলে বা অন্য কোনো কারণে স্পিকার নিজের দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ডেপুটি স্পিকার ওই পদত্যাগপত্র পাবেন।

তখন থেকে ওই সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে।

সূত্র : বিবিসি