কুষ্টিয়ায় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে নেত্রীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানী চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক পদের এক নারী নেত্রী।

এ নিয়ে দিনভর স্যোসাল মিডিয়ার ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিষয়টি ছাত্রলীগের জন্য খুবই দুঃখজন বললেও অনেকেই বলছে রাজনৈতিক ইমেজ নষ্ট করতেই ওই নারী এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। বিষয়টির সত্যতা নিয়েও ধ্রুমজালের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার কুষ্টিয়া মডেল থানায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ, ছাত্রলীগ নেতা ফারদিন সৃষ্টি, মোহাইমিনুল মিরাজ ও মো: হৃদয়সহ চারজনের নাম উল্লেখ করে কুষ্টিয়া মডেল থানা লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ওই নারী নেত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের সাথে রাজনীতি করার সুবাধে সখ্যতা গড়ে ওঠে তার। এক পর্যায়ে হাফিজ বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগী ওই নেত্রীকে কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন। ফলে ওই নেত্রী সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের কাছ থেকে সরে যান। সরে আসার পর থেকেই হাফিজ ফারদিন, সৃষ্টি, মোহাইমিনুল ও হৃদয় রাস্তাঘাটে দেখা হলে বিভিন্ন আজেবাজে কথাবার্তাসহ তাকে অনুসরণ করেন। এছাড়াও তারা ফেসবুকে একটি ফেক আইডি খুলে ওই নেত্রীর ছবি এডিট করে তার ব্যক্তিগত ছবির সাথে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

বিষয়টি নিয়ে ওই নেত্রী অভিযুক্তদের এমন কর্মকাণ্ড আর না করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তার অনুরোধ উপেক্ষা করে হাফিজ প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে হত্যার হুমকিও দেয়। এর কিছু দিন পরে ওই নেত্রীর সাথে রাস্তায় দেখা হলে তারা আরো ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেন।

অভিযোগ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমি জানি না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে সব মিথ্যা। যে মেয়ে অভিযোগ তুলেছেন তার বিরুদ্ধেই নানা রকম অভিযোগ রয়েছে। ফাঁসানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, বিষয়টি আমি শুনিনি। যদি কেউ কাউকে কুপ্রস্তাব দেয় তাহলে সেটা অবশ্যই অপরাধ। এরকম হওয়ার কথা না। যদি সত্যি এমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে তা যাচাই বাছাই করে দেখা উচিত এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মত তার।

এ ব্যাপরে জানতে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খানের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে পরিচয় জানিয়ে এসএমএস দিলে তিনি তাতেও সাড়া দেননি।