কুবিতে হচ্ছে না ফুটবল টুর্নামেন্ট, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক।।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না খেলাধুলার যথাযথ সুযোগ। আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য বিভাগগুলোতে চিঠি দিলেও পূর্বের একটি ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় আটকে আছে টুর্নামেন্ট। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, গত ১৪ মার্চ শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক মনিরুল আলমের বিরুদ্ধে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণসহ হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও খেলা শুরু না করায় এবং প্রতিপক্ষ দল মাঠে উপস্থিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অশোভন আচরণ করেন।

এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মারমুখী ভঙ্গিতে উচ্চবাচ্য করেন এবং বলেন, ‘আমি যেভাবে বলি সেভাবে খেলা চলবে, কার সাহস ও ক্ষমতা আছে দেখি তোমাদের খেলা চালায়। আমার যখন ইচ্ছা তখন খেলা চালাবো। এখন কোনো খেলা চলবে না।’ এরপর তিনি মাঠ ছেড়ে চলে যান।

পরে ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪০ জন শিক্ষার্থী স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ করে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক স্বর্ণা মজুমদারকে সদস্য এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিরুল হক চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় এবং কোন সুরাহা না হওয়ায় আটকে আছে ফুটবল টুর্নামেন্ট। ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, আমরা তদন্তের প্রতিবেদন তৈরি করেছি এবং এই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিব। এরপর প্রশাসন বাকি পদক্ষেপ নিবে।

এদিকে এতোদিন পরেও তদন্তের সুরাহা না হওয়ার ঘটনাকে প্রশাসনের অনীহা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। যার ভুক্তভোগী হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এইচ এম পিয়াস নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “যতটুকু শুনেছি বিগত কোনো এক টুর্নামেন্টে দু’পক্ষের ঝগড়ার জন্য এত দিন বন্ধ ছিলো। শারীরিক শিক্ষা দপ্তরে যাওয়ার পর উনারা বলেছেন ভিসি স্যারের কারণে টুর্নামেন্ট হচ্ছে না। যখন আবার টুর্নামেন্ট হবে শুনলাম তখন খুব আশাবাদী ছিলাম যে টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহণ করবো। কিন্তু পরে আর টুর্নামেন্টে হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় সব কিছুর আয়োজন করতে পারে কিন্তু এই ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে এত অনীহা কেনো? এই টুর্নামেন্টে টা যদি আয়োজন করা যায় তাহলে আমাদের ভার্সিটির জন্য একটি ভালো ফুটবল টিম গঠন করা যাবে। তাই আমাদের সবার দাবি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হোক”।

ইমদাদুল ইসলাম নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “শুনেছি ফুটবল টুর্নামেন্ট হবে তার কিছুদিন পর প্রত্যেক বিভাগে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করার জন্য চিঠিও আসে। তারপর থেকে আমরা নিয়মিত অনুশীলন করে যাচ্ছিলাম হঠাৎ করে একদিন শুনি টুর্নামেন্ট হচ্ছেনা। কেন হচ্ছেনা? আর কবে হবে? আর যদি তারা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে নাইবা পারবে তাহলে কেন বিভাগে চিঠি দিয়েছে? আবার ঘোষণা না দিয়ে টুর্নামেন্ট বাতিল করেছে এই প্রশ্নগুলোর কোন উত্তর আমাদের জানা নেই । তবে একটা গুঞ্জন শুনেছিলাম যে ভিসি স্যার নাকি চাননি তাই হচ্ছে না”।

ফুটবল টুর্নামেন্ট কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, ফুটবল টুর্নামেন্ট কেন হচ্ছে না আমি কিভাবে বলবো। ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টর সময় আমার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ আনা হয়েছে যা নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওইটার সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কমিটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করবে না। একটা অভিযোগ আনা হয়েছে ওই অভিযোগের কোন সুরাহা হয়নি তাই টুর্নামেন্ট হয়নি। আমরা ভিসি স্যারের আশ্বাসে বিভাগগুলোতে সার্কুলার দিয়েছি স্যার বলছে এটা সমাধান হয়ে যাবে। যেহেতু সমাধান হয়নি তাই টুর্নামেন্ট হচ্ছে না।

ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম বলেন, ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের সময় নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাথে একটু ঝামেলা হয়েছে। তারপর তারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে এবং উপ-পরিচালক মনিরুল আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি হয়েছে। অভিযোগ যদি কোন বিভাগ করতো তাহলে ঠিক আছে কিন্তু একটা বিভাগের কতিপয় শিক্ষার্থী তারা একটা অভিযোগ দায়ের করলো সেই অভিযোগের তদন্ত কমিটি হলো এই বিষয়টি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। এজন্য ক্রীড়া কমিটি মনে করেছে এই বিষয়টি সমাধান হওয়া উচিত। আমরা উপাচার্যের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং সমাধান চেয়েছি উনি বলেছেন যেহেতু আমরা একটা তদন্ত কমিটি করে ফেলেছি আমি তাদেরকে ডেকে বলবো এটা যতদ্রুত সম্ভব সমাধান করে দিতে। উপাচার্যের এই আশ্বাসে আমরা ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য বিভাগগুলোতে চিঠি দিয়েছি কিন্তু দৃশ্যমান কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আমরা এটা পেন্ডিং করে দিয়েছি। আমরা কমিটি আবার বসেছি এবং উপাচার্যের আবার সময় চেয়েছি কিন্তু উপাচার্যের সময় পাইনি। যে ঘটনা ঘটেছে আমরা মনে করি কালক্ষেপণ না করে তা সমাধান করা উচিত।

এতদিন পরেও কেন তদন্তের সুরাহা হয়নি জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম মঈনকে বরাবরের মতো একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়েছিল আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট। এরপর ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে হয়নি এই টুর্নামেন্ট।