কীটের সংকটে করোনা পরীক্ষা

প্রকাশিত: ১:২৫ অপরাহ্ণ, বুধ, ২৫ নভেম্বর ২০

অনলাইন ডেস্ক ঃ
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশে নানা রকম সংকটের বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে।

বিশেষ করে অক্সিজেন, কিট ও সুরক্ষা সামগ্রীর সংকটের বিষয়টি এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যার যাতে দ্রুত সমাধান হয়, সে জন্য সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ অবস্থায় সবাই আশা করেছিল, আমাদের সামর্থ্যরে মধ্যে থাকা এ খাতের কোনো বিষয় নিয়ে দেশবাসীর বেশি উদ্বিগ্ন হতে হবে না এবং করোনা মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সুফল দৃশ্যমান হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে গত কয়েক মাস এত আলোচনা সত্ত্বেও সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের শুরুতেই কিট ও সুরক্ষা সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, নমুনা পরীক্ষায় ব্যবহার্য আরটি-পিসিআর কিটসহ এ বিষয়ক অন্যান্য জরুরি উপকরণের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কেনাকাটার সব দায়িত্ব সিএমএসডির।

কিন্তু তারা যথাসময়ে উপকরণ সরবরাহ করতে পারছে না। বর্তমানে বিভিন্ন দাতার দেয়া কিট দিয়েই ল্যাবগুলোর কাজ চালানো হচ্ছে। সরকারিভাবে পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা করা হয়-এমন তিনটি বড় ল্যাবে পর্যাপ্ত কিট সরবরাহ নেই। প্রতিদিনই পরীক্ষা চালাতে তাদের নানা ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কিট কেনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া না হলে দ্বিতীয় সংক্রমণ মোকাবেলায় সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

করোনা মোকাবেলায় পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, পর্যাপ্ত রোগী শনাক্ত করা সম্ভব না হলে চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটবে। তাই পরীক্ষার সব সরঞ্জাম সরবরাহে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কোনো উপকরণের যেন সংকট সৃষ্টি না হয়, সে জন্য নির্দেশনা দেয়া আছে। কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব অনুমতি দেয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছেন। এ অবস্থায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না থাকলেও কেন বিভিন্ন উপকরণের সংকট সৃষ্টি হল, তা দ্রুত খতিয়ে দেখা দরকার।

জানা গেছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় ২৭ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিএম পদ্ধতিতে আরটি-পিসিআর কিট, ল্যাব কনজিউমেবলস এবং পিপিই কেনার অনুমতি দেয়া হয়।

পরে ২৯ আগস্ট অধিদফতরে এ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর সিএমএসডিকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যবহারের জন্য ১৮ লাখ টেস্ট কিট ও অন্যান্য নিরাপত্তা সামগ্রী কিনতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর সিএমএসডি দেড় লাখ পিসিআর কিট সরবরাহ করার নির্দেশ দেয়।

অল্প সময়ে এ কিট শেষ হয়ে যাওয়ায় ১৯ অক্টোবর দেড় লাখ কিটের চাহিদা সিএমএসডিতে দেয়া হয়। এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রীর চাহিদাপত্রও দেয়া হয়। ৩ নভেম্বর পর্যন্ত কোনো কিট পাওয়া না গেলে অধিদফতর থেকে পুনরায় তাগিদ দেয়া হয়। তারপর সিএমএসডি কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে এবং তৎপরতা শুরু হয়।

সরঞ্জাম সংকটের কারণে দেশে করোনা পরীক্ষায় কাক্সিক্ষত গতি আসেনি। দ্বিতীয় ঢেউ আসার পরও যদি একই অবস্থা বিরাজ করে, তাহলে সেটা হবে দুঃখজনক। আমরা আশা করব, কিটসহ করোনা পরীক্ষার যাবতীয় সরঞ্জামের সংকট নিরসনে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সুত্রঃ দৈনিক যুগান্তর

শিক্ষাবার্তা/ বিআ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.