করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও শিক্ষা খাত

প্রকাশিত: ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ১০ নভেম্বর ২০

সাহাদাৎ রানা

বৈশ্বিক মহামারী করোনার মধ্যে এক কঠিন সময় অতিবাহিত করছে সারা বিশ্ব। এর বাইরে নয় বাংলাদেশও। দেশে করোনা রোগী চিহ্নিত হওয়ার পর থেকে শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়লেও এখন কিছুটা কমেছে সেই সংখ্যা।

ভয়ও কমেছে অনেকটা। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছু খুলে দেয়া হয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার চিত্রও দেখা যাচ্ছে। তবে এখনও বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়সীমা। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত অবশ্যই ইতিবাচক।

কেননা, শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতি আরও ভালো হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে অবশ্য কিছু শিক্ষক ও অভিভাবকের পক্ষ থেকে দ্রুত স্কুল খুলে দেয়ার দাবি উঠেছে। তবে এমন দাবি উঠেছে শুধু বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে।

অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকেও সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকার আশঙ্কা করছে শীতের সময় করোনায় আবারও আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে, যাকে বলা হচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। করোনার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় সবার মধ্যেই কাজ করছে ভয়।

তাই এক ভয়ানক সময় অতিবাহিত করছে সবাই। করোনার কারণে শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অবশ্য কয়েকটি দেশে করোনা প্রকোপ কিছুটা কমে এলে সেখানে খুলে দেয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে সেসব দেশে দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই বাংলাদেশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া বা না দেয়ার বিষয়ে চলছে আলোচনা।

বাস্তবতা হল, করোনার প্রভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ এ সময়ে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা সত্যিই কঠিন। করোনার কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কাও প্রবল। ইতোমধ্যে করোনার জন্য এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাদের ফলাফল দেয়া হবে। এ নিয়েও রয়েছে মত-দ্বিমত। তবে বাস্তবতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল সঠিক। বলার অপেক্ষা রাখে না, সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। করোনার মধ্যে পাবলিক পরীক্ষা নেয়া কোনোভাবেই ঠিক হতো না।

এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে সবার মধ্যে কিছুটা হলেও ভয় বাড়ছে। শীতের কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি যেখানে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেখানে যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয় তবে তা হবে ভুল সিদ্ধান্ত। শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনোভাবেই ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হচ্ছে এটা সত্যি। তবে সবার আগে জীবনের সুরক্ষার প্রশ্ন।

করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে নিশ্চয়ই খুলে দেয়া হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তখন প্রধান কাজ হবে কোনোভাবেই যেন শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখা। এ জন্য দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সুবিধা প্রদান করতে হবে। এছাড়া আরও বেশকিছু কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যেসব শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকবে তালিকা তৈরি করে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

তবেই হয়তো শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ করা অনেকটা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে অভিভাবক থেকে শুরু করে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে রাখতে হবে ভূমিকা। করোনার সময়ে শিক্ষার্থীরা যেন বাসায় বসে তাদের পড়াশোনা ঠিকভাবে চালিয়ে যায় সে বিষয়ে অভিভাবকদের আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।

-যুগান্তর

সাহাদাৎ রানা : সাংবাদিক

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.