কম ভাড়ার বাসা খুঁজছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

কিছুদিন পরপরই বাড়ছে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও পানির দাম। এর সাথে বাড়ছে সব ধরনের খরচ। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে হু হু করে। সকালে এক দাম তো বিকেলেই আরো বেড়ে যাচ্ছে। সবজি থেকে ফল; মসলা, সাবান, ডিটারজেন্ট থেকে শিশুখাদ্য কোন দ্রব্যের মূল্য বাড়েনি? এর সাথে বেড়েছে ঘরভাড়া। ফলে মানুষ এখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় রাজধানীতে বসবাসরত মানুষ কোনো রকমে টিকে থাকার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে। এ জন্য কেউ বেশি দামের বাসা ছেড়ে কম দামের বাসায় উঠছেন। কেউ ধনী এলাকা থেকে একটু কম দামের ঘর ভাড়া পাওয়া যায় এমন এলাকায় যাচ্ছেন। আর যারা মোটেই খরচ সামাল দিতে পারছেন না তারা একেবারে খাট-তোশক নিয়ে রাজধানী ছাড়ছেন।

রাজধানীতে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ এলাকাতেই বাড়ির গেটে, রাস্তার পাশের দেয়ালে অসংখ্য ‘টু-লেট’ লেখা নোটিশ টানানো হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধি ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় মানুষ বাসা ছাড়ছে। এর মধ্যে কেউ এলাকা বদল করছে আবার কেউ ঢাকা ছাড়ছে। মুগদা ব্যাংক কলোনির একটি বাড়ির মালিক আহমেদুল কবির জাকির নয়া দিগন্তকে বলেন, গত দুই-তিন মাসের মধ্যে ওই কলোনির পাঁচ-ছয়টি পরিবার বাসা ছেড়ে গেছে। মুগদা এলাকার এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে টু-লেট লাগানো নেই। তিনি বলেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষ এখন হিমশিম খাচ্ছে। এ জন্য এক জায়গার বাসা ছেড়ে কম ভাড়ায় অন্য জায়গায় যাচ্ছে। বড় বাসা ছেড়ে যাচ্ছে ছোট বাসায়। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়িওয়ালারাও বেকায়দায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

রাজধানীতে নির্মাণ খাতে ঠিকাদারের কাজ করা সিরাজুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, এখন ব্যবসাবাণিজ্যে স্থবিরতা চলছে। নির্মাণ খাতে কাজ কমে গেছে। কাজ না থাকায় আমার ফার্মের একজন অফিস সহায়ক ছিল যাকে ১৫ হাজার টাকা বেতন দিতাম; কিন্তু তাকে বেতন দিতে না পারায় চাকরি থেকে ছেড়ে দিতে হয়েছে। এ ছাড়া অনেক শ্রমিক ছিল, তাদেরও কোনো কাজ নেই। তারা ছয়-সাত হাজার টাকায় ঘরভাড়া দিয়ে থাকত। এখন সেটিও দিতে পারছে না। এ কারণে তাদের অনেকে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে।

বনশ্রী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন ইউনুস আলী। তিনি বলেন, এখন যে বাসায় থাকেন সেখানে ১৬ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। এর সাথে বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল আলাদাভাবে দিতে হয়। এ ছাড়া চাল, তরকারি থেকে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। চাকরি থেকে যে বেতন হয় তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগামী মাসে তিনি ওই বাসা ছেড়ে পাশের ব্লকে ১৪ হাজার টাকার একটা বাসায় উঠবেন। কিন্তু আগের বাসা থেকে এ বাসার রুম সংখ্যা ও জায়গা কম বলে তিনি জানান।

মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় ভাড়াবাড়িতে থাকেন বেসরকারি চাকরিজীবী ইসতিয়াক হোসেন। তিনি জানান, এক দিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। অন্য দিকে ঘরভাড়াও বাড়ছে। এখন রাজধানীতে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ছেলেমেয়ে নিয়ে পঁাঁচজনের সংসার। তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাটে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিতাম; কিন্তু আগামী মাসে দুই হাজার টাকা ভাড়া বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন বাড়িমালিক। এর সাথে গ্যাস, বিদ্যুতের বিল রয়েছে। এত টাকা দিয়ে এখন এ বাসায় থাকা সম্ভব না। প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। আবার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচও বেড়েছে। জানুয়ারি মাস এলে আরো খরচ বাড়বে। এ জন্য বাসাবো এলাকায় ১৪ হাজার টাকার একটি তিন কক্ষের বাসা ঠিক করেছি। আগামী মাসে ওই বাসায় উঠব। বাসা মনের মতো না হলেও বাধ্য হয়ে ওই বাসায় উঠতে হবে।