কম দামে বই বিক্রি করায় বই ব্যবসায়ীদেরকে জরিমানা

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ বিক্রেতারা চান গায়ে লেখা মূল্যের চাইতে কম দামে অনুশীলন বা সহায়ক বই বিক্রি করতে। কিন্তু ওখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পুস্তক বিক্রেতা সমিতি। তারা জিম্মি করে ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত মূল্যে তা বিক্রি করতে বাধ্য করছে। এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জেলার পুস্তক বিক্রেতাদের তরফে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, জেলার ৭টি উপজেলায় প্রতিবছর কমবেশি প্রায় ৩৫-৪০ কোটি টাকার বই ও শিক্ষা উপকরণ বিক্রি হয়ে থাকে। সেখানে ১০ ভাগ কমিশন দেয়া হলে ভোক্তাদের প্রায় ৩-৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হতো। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না সিন্ডেকেটের কারণে। নতুন বছরের চলতি মাসে কম দামে অনুশীলন বা সহায়ক বই বিক্রি করায় জেলা শহরের কয়েকজন পুস্তক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে মৌলভীবাজার পুস্তক বিক্রেতা সমিতি।

জানা যায়, জানুয়ারি মাসের শুরুতে জেলার প্রায় ১০টি লাইব্রেরিকে নির্ধারিত মূল্যের চাইতে কম দামে বই বিক্রির অভিযোগে দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে পুস্তক বিক্রেতা সমিতি। ওই চক্র স্থানীয় পুস্তক ব্যবসায়ীদেরকে পুস্তক বিক্রেতা সমিতি সিন্ডিকেটের আওতায় এনে ৩য় শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণির বইয়ের গায়ে মুদ্রিত মূল্যে বিক্রির জন্য নির্দেশ দেয়।

তবে ব্যবসায়ীরা বইয়ের গায়ে মুদ্রিত মূল্য থেকে ১০ ভাগ কমিশনে বই বিক্রি করলে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয় পুস্তক বিক্রেতা নামের ওই সিন্ডিকেট। এ নিয়ে ১০টি লাইব্রেরিকে জরিমানা করে ওই সিন্ডিকেট।

এ বিষয়ে কয়েকজন পুস্তুক বিক্রেতা জানান, বই বিক্রির সিন্ডিকেট ভেঙে দিলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অনেকটা সাশ্রয়ী মূল্যে বই ক্রয় করতে পারতেন। পুস্তক বিক্রেতা সমিতি সিন্ডিকেট করে উচ্চ মূল্যে বই বিক্রি করতে বাধ্য করছেন। তাদের কথামতো বই বিক্রি না করলে নানা অজুহাতে তাদের মাল ঢাকা থেকেই আটকে দেয়। বৈধ অবৈধের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে নানাভাবে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা জোর দিয়ে বলেন, উচ্চ মূল্যে বই বিক্রি করার অভিযোগ তদন্ত করলেই মৌলভীবাজার পুস্তক বিক্রতা সমিতির ব্যাপক অনিয়মের তথ্যও পাওয়া যাবে। এই সিন্ডিকেট প্রকৃত বই বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে অভিযোগ তুলে কয়েকটি লাইব্রেরির বই বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই চক্রের খপ্পরে ক্ষতিগ্রস্ত লাইব্রেরি হলো- উল্কা লাইব্রেরি, এ.জি লাইব্রেরি, ইকরা লাইব্রেরি, জামান লাইব্রেরি, বই বিতান, ইসলামিয়া লাইব্রেরি, ঢাকা গ্লোব লাইব্রেরিসহ শাহ মোস্তাফা লাইব্রেরি, বইঘর, কুদরতিয়া লাইব্রেরি, মডার্ন লাইব্রেরি। তাদের কাছ থেকে একাধিকবার জরিমানার নামে হাজার হাজার টাকা আদায় করা হয়।

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ও কাশিনাথ আলাউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুশীলনমূলক বই ক্রয় করতে গেলে সিন্ডিকেটের কারণে মুদ্রিত মূল্যের কমে বই ক্রয় করা অসম্বব হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌলভীবাজার পুস্তক বিক্রেতা একাধিক লাইব্রেরির মালিক জানান, কম দামে বই বিক্রি করলে স্থানীয় পুস্তক বিক্রেতা সমিতিকে জরিমানা দিতে হয়। তাই আমাদের ইচ্ছা থাকলেও জরিমানা ও ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তা পারি না। কম মূল্যে বই ক্রয় করতে না পারায় জেলার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলা প্রশাসন ও জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কার্যালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হলে আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় বই ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করতে পারতাম।

এ বিষয়ে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল আমীন মুঠোফোনে জানান বিষয়টি শুনেছি। কিন্তু কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২৪/২৩