কপালে জোটেনি শতবর্ষী আবেদ আলীর বয়স্ক ভাতা

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের হেমনগর উত্তর পাড়া গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধ আবেদ আলী (১১২)। বয়স্ক ভাতার জন্য ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ার হোসেনের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েছিলেন। এরপর ওই ইউপি সদস্যের চাহিদা পূরণ না করতে পারায় বৃদ্ধ আবেদ আলীর আর বয়স্ক ভাতা হয়নি। এমনকি তার জাতীয় পরিচয়পত্রটি এখনো ওই ইউপি সদস্যের কাছেই আছে। এদিকে ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনের মেয়াদ শেষে তিনি সাবেক হয়ে গেছেন।

নতুন ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ওই ওয়ার্ডে সুজন সরদার। তার কাছেও বছরখানেক ধরে বয়স্ক ভাতার জন্য ধর্ণা দিয়েও কাজ হয়নি। ফলে বৃদ্ধ আবেদ আলী ভিক্ষাবৃত্তি করে কষ্টে জীবন নির্বাহ করছেন এখন। জানা গেছে, উপজেলার হেমনগর নদীর উত্তরপাড়া গ্রামের আবেদ আলীর সম্পদ বলতে কিছুই নেই। ৬ মেয়ে ও ১ ছেলের জনক তিনি।

স্ত্রী গত হয়েছেন অনেক আগেই। মৃত স্ত্রীর নামে ৪ শতকের বসতভিটাটি তার মা ছেলে মহির উদ্দিনকে দলিল করে দিয়ে গেছেন। আর সে বাড়িতেই একটি ঝুপড়ি ঘরে স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে তছিরন নেছাকে নিয়ে বসবাস করেন বৃদ্ধ আবেদ আলী। তবে ভিক্ষাবৃত্তিতে যা পান তাই দিয়ে বাবা-মেয়ের খাওয়া-দাওয়াই চলে না এমনটি জানান প্রতিবেশী ফেরদৌস মামুন।

সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, অনেক চেষ্টা করেছি বৃদ্ধ আবেদ আলীর বয়স্ক ভাতার কার্ড করার। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আর হয়ে উঠেনি।

আর বর্তমান ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজন সরদার জানান, আগামীতে আবেদন নেওয়া শুরু হলেই বৃদ্ধ আবেদ আলীর বয়স্ক ভাতার কার্ড করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সগুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, অনলাইনে আবেদন শুরু হলেই প্রথম ওই বৃদ্ধর বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেবো।

তাড়াশ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কেএম মনিরুজ্জামান জানান, সংবাদকর্মীদের কাছে থেকে জানার পর বিষয়টি নিয়ে ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি আগামীতে আবেদন শুরু হলে বৃদ্ধ আবেদ আলী বয়স্ক ভাতা কার্ডটি পেয়ে যাবেন।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২২/২৩