এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা ঘোষিত সময়ে হচ্ছে না

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, শুক্র, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২১

নিউজ ডেস্কঃ

পিছিয়ে যাচ্ছে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা। করোনার কারণে গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ বছর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এ পরীক্ষা পিছিয়ে যথাক্রমে আগামী জুন ও আগস্ট মাসে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সেজন্য এসএসসির ৬০ দিন ও এইচএসসি ৮৪ দিন ক্লাস ধরে পরিমার্জিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসও প্রকাশ করেছে শিক্ষাবোর্ড।

সম্প্রতি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে এমনটি ধরেই এ ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে, সরকারি বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ২৪ মের পর খোলা হবে এমন ঘোষণার পর এ দুটি পরীক্ষা জুন ও আগস্টে হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বোর্ড কর্মকর্তারা।
শিক্ষাবোর্ড ও এনসিটিবি কর্মকর্তারা বলছেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হবে এমনটি ধরে এ ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু বর্তমান ছুটি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মার্চ মাসেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে কি না তাও অনিশ্চিত।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এক লাখ ৩০ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ হাজার ৫২৪ জন শিক্ষককেও ভ্যাকসিনের আওতায় এনেই হল ও ক্যাম্পাস খোলা হবে। আর ১৭ মের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা কর্মচারীদেরও করোনার টিকা নিতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষকের সংখ্যা চার লাখ ছয় হাজার ৪৭৯ জন। আর কর্মচারীর সংখ্যা এক লাখ ৬২ হাজার ৮৬১ জন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে পাঁচ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩০ জন। এর সঙ্গে মাধ্যমিকের যেসব শিক্ষা কর্মকর্তা রয়েছেন তা যোগ করলে পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩০ জন।
মন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার টিকা না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না এটা বলা যায়। অন্যদিকে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করা নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশের প্রায় এক মাস হতে চললেও শ্রেণিকক্ষে সরাসরি ক্লাস শুরু হয়নি। ২৩ মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঘোষণার পরে ঈদের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই। ঈদের পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী ক্লাস নিয়ে আগস্টের আগে এসএসসি ও সেপ্টেম্বরের আগে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না।
এ বিষয়ে ঢাকা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এসএম আমিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি খুললে সম্ভব ছিল। এখন যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে বিলম্ব হচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে যাবে। কারণ, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন যে না পড়িয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে না।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.