এমপিও ভুক্তিতে নতুন জটিলতা

প্রশান্ত কুমার মিত্র।।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তিতে ডিগ্রিস্তর এমপিও ভুক্তি নিয়ে সৃষ্টি হতে যাচ্ছে নতুন জটিলতা। ডিগ্রিস্তর এমপিও ভুক্তি নিয়ে এমপিও নীতিমালায় নেই কোন স্পষ্ট তথ্য। তাতে আদৌ যোগ্য প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত হবে কিনা অর্থ্যাৎ মন্ত্রনালয় এর তৈরিকৃত তালিকায় যোগ্য প্রতিষ্ঠানের নাম আছে কিনা অনেক শিক্ষকদের সন্দেহ।

কেননা এমপিও ভুক্তির ক্ষেত্রে সরকার ১০০ নম্বরের যে গ্রেডিং করেছে তাতে ডিগ্রিস্তরে কতজন পরির্ক্ষাী থাকতে হবে উল্লেখ নাই। এমপিও নীতিমালায় কলেজ পর্যায়ে ১১শ-১৫শ শ্রেনীতে ২৫০ জন অর্থ্যাৎ ২০০জন এইচ এস সি স্তরে এবং ৫০ জন ডিগ্রি স্তরে শিক্ষার্থীর কথা বলা থাকলেও পরীক্ষার্থীর বেলায় শহরে ৬০ এবং মফস্বলে ৪০ ধরা হয়েছে। যেখানে ডিগ্রি স্তরে শিক্ষার্থীর ধরা হয়েছে ৫০ জন,সেখানে পরীক্ষার্থীর বেলায় শহরে ৬০ এবং মফস্বলে ৪০ হতে পারেনা। এমপিও কমিটির আহবায়ক জাবেদ আহমেদ একটি স্বাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, ডিগ্রিস্তর এমপিও ভুক্তির জন্য গ্রেডিং এ ৫০ নম্বর ধরা হয়েছে। তিনি ডিগ্রিস্তর এমপিও ভুক্তিতে ত্রæটির কথা স্মীকারও করেছেন এবং সমস্যা হবেনা একথাও বলেছেন।

যে সফট্ওয়্যারে তালিকা করা হয়েছে সেখানে এধরনের কিছুই ছিলনা। সফট্ওয়্যার শুধু ১০০ নম্বর এর গ্রেডিং করেছে, ৫০ নম্বর নয়। সেক্ষেত্রে তালিকায় অনেক যোগ্য প্রতিষ্ঠানের নাম নাও থাকতে পারে। পরিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষার্থী সংখ্যা ও পাশের হার আবেদনের সময় অটোমেটিক ব্যানবেইস থেকে চলে এসেছিল। যা পরিবর্তন করার কোন সুযোগ ছিলনা। যে সংখ্যা উল্লেখ ছিল, সে সংখ্যা অনুসারেই গ্রেডিং হয়েছে। কিন্তু আবেদনের পরবর্তী ভর্তিতে শিক্ষার্থীসংখ্যা অনেক কলেজেই বেড়েছে। যা অনুসরণ করা হয়নি।
অন্যদিকে আরও শোনাযায় যে, কোন কোন এমপি মহোদয় নিজের পছন্দ অনুযায়ী চড়,হাওড়-বাওড়, অনগ্রসর অঞ্চল দেখিয়ে এমপিওর জন্য সুপারিশ করে তালিকায় প্রতিষ্ঠানের নাম অর্ন্তভুক্ত করেছেন। আসলে এমন অনেক অঞ্চল আছে যা চড়,হাওড়-বাওড়, অনগ্রসর অঞ্চল নয়। তারা পুরাতন অনেক কলেজ অর্থ্যাৎ ১৮-২০ বছর আগে অধিভুক্ত হয়েছে এমন কলেজ এর সুপারিশ তারা করেননি। নারী শিক্ষাকেও কোন প্রাধান্য তারা দেননি। সেক্ষেত্রে অনেক যোগ্য প্রতিষ্ঠান এমপিও বঞ্চিত হবে আর অনেক অযোগ্য প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত হবে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও ভুিক্তর চুড়ান্ত তালিকা করলেও এধরনের ধোয়াশার কারনে অনেক জটিলতা দেখা দিবে। কেউ কেউ আদালতের দ্বারস্থ হবে। সেক্ষেত্রে আটকে যেতে পারে এমপিও। তাই আইনি জটিলতা এড়াতে এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠান যাতে এমপিও পায় সেজন্য এমপিও নীতিমালা এবং তালিকা সংশোধন করে তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন অনেক শিক্ষকরা।