এমপিওভুক্তি তালিকায় ভুল তিন শতাধিক তৃতীয় শিক্ষক বঞ্চিত

নিউজ ডেস্ক।।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজে ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গত ৭ নভেম্বর কয়েকটি শর্ত দিয়ে ৭৭০ জন তৃতীয় শিক্ষকের নামের তালিকা প্রকাশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

কিন্তু এই তালিকায় এমপিওভুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে নানা ধরনের ভুল ও অসঙ্গতি রয়েছে। বঞ্চিত শিক্ষকদের অভিযোগ, মাউশির উদাসীনতায় সব শর্ত পূরণ হওয়া সত্ত্বেও তালিকায় দেশের বিভিন্ন স্থানের ৩ শতাধিক শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

এমপিওভুক্তির তালিকায় বাদ পড়া শিক্ষকরা জানান, মাউশির তালিকায় বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। এ তালিকায় এক নাম একাধিকবার প্রকাশ, ইতিপূর্বে সমন্বয়ের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের নামও অন্তর্ভুক্ত, অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক, ননএমপিও ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, সদ্য জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকের নামও হয়েছে। এমপিওভুক্তির জন্য মনোনীত ৭৭০ জন শিক্ষকের তালিকায় দেখা গেছে- ৬, ৭, ৮নং তালিকায় প্রকাশিত ৪ জন শিক্ষকের নাম পুনরায় ৫৫২ থেকে ৫৫৫ নম্বরেও রয়েছে।

একই তালিকায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া কলেজের ৭ জন শিক্ষকের নাম ৬৫ থেকে ৭১ নম্বরে থাকলেও পুনরায় তাদের নাম ৭২ থেকে ৭৮ নম্বরে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১৭ থেকে ২২৩ পর্যন্ত তালিকার শিক্ষকদের নাম পুনরায় ২২৪ থেকে ২৩০ নম্বরে যুক্ত করা হয়েছে। তালিকার ৭৪৪ থেকে ৭৪৭ পর্যন্ত শিক্ষকদের নাম ফের ৭৫০ থেকে ৭৫৩ নম্বরে আছে। এ তালিকায় নীতিবহির্ভূতভাবে অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষক, সমন্বয়কৃত শিক্ষক, ২০১৭ সালে কমিটির মাধ্যমের নিয়োগকৃত শিক্ষকও রয়েছে।

বঞ্চিত শিক্ষকরা আরও জানান, এমপিওভুক্তির জন্য মাউশির সব শর্ত পূরণ থাকলেও তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তারা ৮-১০ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করে আসছেন।

এ বিষয়ে এমপিওভুক্তিতে বাদ পড়া তৃতীয় শিক্ষকদের সংগঠন ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক ফেডারেশনের সমন্বয়কারী বুলবুলি আক্তার ও ফরহাদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, এই অসঙ্গতিপূর্ণ তালিকা বাতিল করে পুনরায় সংশোধিত তালিকা প্রণয়ন করা ও বাদ পড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে তারা শিক্ষা সচিব এবং মাউশির মহাপরিচালকে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন দিয়েছেন। কিন্তু ইতিবাচক কোনো সাড়া মেলেনি। দ্রুত সন্তোষজনক সমাধান না পেলে বাদ পড়া শিক্ষকরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে মাউশির (কলেজ-২) উপ-পরিচালক এনামুল হক হাওলাদার আমাদের সময়কে বলেন, বাদ পড়া শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।