নতুন এমপিও নীতিমালায় যে পরিবর্তন এসেছে

প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১৯ জানুয়ারি ২১

নিউজ ডেস্ক।।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির নতুন নীতিমালা জারি করতে চলেছে সরকার। ২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে সংশোধনী এনে নতুন এ নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ)-এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১’ শীর্ষক এ নীতিমালায় বেশকিছু পরিবর্তন এসেছে। সৃষ্টি হয়েছে বেশকিছু নতুন পদও। তবে আগের নীতিমালা সহজ করেই এটি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীসহ এ-সংক্রান্ত নথি অনুমোদনের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি অনুমোদন করলেই সংশোধিত নীতিমালা জারি করবে এ মন্ত্রণালয়।

এতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির শর্তাবলিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাসের হারের শর্তে এবার কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। তুলে দেওয়া হয়েছে স্বীকৃতির শর্তটিও। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আবার বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে এমপিওভুক্তির সম্ভাবনা কম হলেও ফেব্রুয়ারিতেই নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ শুরু করা হতে পারে।

নতুন নীতিমালায় এমপিওভুক্তি পেতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হারের শর্তে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, আগে মফস্বলে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে ১৫০ শিক্ষার্থী থাকলেই হতো। এখন সেই শিক্ষার্থী সংখ্যা হতে হবে কমপক্ষে ২৪০ জন।

নতুন নীতিমালায় নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে আগের ৪টি শর্ত থেকে একাডেমিক স্বীকৃতির ব্যাপারটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে উচ্চ মাধ্যমিকে সিটি করপোরেশন এলাকায় পাসের হার কমপক্ষে ৬৫ শতাংশ, পৌর এলাকায় ৫৫ শতাংশ এবং মফস্বলে ৫০ শতাংশ রাখা হয়েছে।

মাধ্যমিকে সিটি করপোরেশন এলাকার স্কুলে পাসের হার ৬৫ শতাংশ, পৌর এলাকায় ৫৫ এবং মফস্বলে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। আর নিম্ন মাধ্যমিকে পাসের হার সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭০ শতাংশ, পৌর এলাকায় ৬০ ও মফস্বলে ৫৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ডিগ্রি কলেজে পাসের হার ৭০ থেকে ৪৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।

সংশোধিত নীতিমালায়, শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিকে শহর এলাকায় বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে পৃথকভাবে ৪৫ জন এবং মফস্বলে পৃথকভাবে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী থাকতে হবে। মাধ্যমিকে শহরাঞ্চলে প্রতি শ্রেণিতে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী থাকতে হবে ও কমপক্ষে ৩৫ জনকে পরীক্ষা দিতে হবে। মফস্বলে ৩৫ জন করে শিক্ষার্থী থাকার ও ৩০ জনকে পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আগের এমপিও নীতিমালায় (২০১৮) কোনো প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তি পেতে প্রধান চারটি শর্ত পূরণ করতে হতো। এগুলো হচ্ছে- একাডেমিক স্বীকৃতি, শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষার্থী ও উত্তীর্ণের সংখ্যা। যোগ্যতা পূরণ করতে সহশিক্ষা ও বালক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহরে ২০০ ও মফস্বলে ১৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে।

মাধ্যমিকে শহরে ৩০০ ও মফস্বলে ২০০ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। স্কুল অ্যান্ড কলেজে শহরে ৪৫০ ও মফস্বলে ৩২০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে শহরে ২০০ ও মফস্বলে ১৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। স্নাতক পাস কলেজে শহরে ২৫০ ও মফস্বলে ২০০ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। আর প্রতি শ্রেণির পরীক্ষায় শহরে ৬০ জন ও মফস্বলে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে অংশ নিতে হবে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ হতে হবে। এবারের নীতিমালায় পাসের হারে ছাড় দিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালা প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশীদ আমিন বলেন, তারা কোনো নতুন নীতিমালা করেননি। আগের নীতিমালা সংশোধন করে যুগোপযোগী করেছেন। চূড়ান্ত খসড়া শিক্ষামন্ত্রীর বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তার অনুমোদনের পর তা জারি করা হবে।

সূত্র: সমকাল

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.