এবার স্কুল শিক্ষককে কিল ঘুষি মারলেন ছাত্রদল নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুড়িগ্রামঃ কুড়িগ্রাম সরকারি বালক বিদ্যালয়ে সরকারি পরিপত্রের প্রেক্ষিতে ছাত্র ভর্তি বাতিল করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাবেক জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকও বর্তমান জেলা বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ রানা স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক আবদুল হাইকে কিল ঘুষি ও মারধর করে। এ সময় অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে বাঁধা দিলে বেশ কয়েকজন অভিভাবক শিক্ষকদের উপর চড়াও হয়।

রবিবার দুপুরে সরকারী বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের রুমে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষকরা কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। তারা বলছেন দোষীদের বিচারের আওতায় না আনলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহন করবে। বিষয়টি এখন টক অবদি টাউন। স্থানীয় শিক্ষক সমাজ বিষয়টি কোনভাবে মেনে নিতে পারছে না। তারা বলছে ঐ নেতাকে দ্রত আইনের আনার দাবী জানান।

আরও পড়ুনঃ  প্রধান শিক্ষককে তুলে নিয়ে পেটালেন আ. লীগ নেতা

স্কুলের শিক্ষকরা জানান রবিবার দুপুরে ২০২৩ সালের ষষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি বাতিল কৃত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা আবেদন সহ প্রধান শিক্ষকের রুমে যান এবং আবেদনগুলোর ভর্তি বাতিল হবার কারণ জানতে চান। প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্য শিক্ষকগণ সরকারী পরিপত্রের প্রেক্ষিতে ভর্তি বাতিল করা হয়েছে মর্মে তাদেরকে জানান। তখন তারা বাকবিতন্ডে জড়িয়ে পরে। এক পর্যায়ে সাবেক জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা (৪০) সিনিয়র শিক্ষ আবদুল হাই সিদ্দিকীকে এলোপাথারি কিলঘুষি মারে।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষককে পেটানো সেই আ’লীগ নেতাকে অব্যাহতি

এ সময় উপস্থিত শিক্ষকগণ বাঁধা দিলে অন্যান্য অভিভাবকগণ চড়াও হয় এবং ভয়ভীতি প্রর্দশন ও হত্যার হুমকী দিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েন স্কুলের শিক্ষকগণ সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা এ দৃশ্য ছড়িয়ে পরলে জেলা জুড়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। এ ঘটনায় শিক্ষকরা তাৎক্ষনিকভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিনহাজুল ইসলামের কাছে যান এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন। নতুবা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসুচী গ্রহন করা হবে বলে জানান। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানান। শিক্ষকরা কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করে। যার নং-১২৯১।

আরও পড়ুনঃ প্রধান শিক্ষককে পেটানো সেই আ. লীগ নেতার নামে মামলা

নির্যাতিত শিক্ষক মো. আব্দুলহাই সিদ্দিকী জানান, পিয়নের মুখে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে হট্টগোলের খবর পেয়ে সেখানে যাই। কিছ অভিভাবক তাদের সন্তানের ভর্তি বাতিল বিষয়ে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়। আমি তাদের সাথে কথা বলতে গেলে কুড়িগ্রাম মোল্লাপাড়ার ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ’র পূত্র মো. মাসুদ রানা প্রথমে আমার উপর চড়াও হয়। এরপর ধাক্কাতে ধাক্কাতে এক কোনায় নিয়ে যায়। বর্তমানে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরেছি।

তবে এই বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানা জানান,আমার সন্তানকে ১৮ ডিসেম্বর স্কুলে ভর্তি করাই। ২৮ ডিসেম্বর স্কুলের নোটিশ বোর্ডের মাধ্যমে জানতে পারি আমার সন্তানসহ ৪২জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। সে ব্যপারে কয়েকজন অভিভাবকসহ প্রধান শিক্ষককে দরখাস্ত দিয়ে কপি গ্রহণ করি। এ সময় কথা বলার এক পর্যায়ে একজন শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে পড়লে তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। আমি তাকে লাঞ্ছিত করি নাই।

কুড়িগ্রাম সরকারী বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াসমিন আরা হক জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন । শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের স্বার্থে ঐ সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবী করছি। তা নাহলে আমরা শিক্ষক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে যাবো।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মিনহাজুল ইসলমাম জানান, সরকারী স্কুলের ঘটনাটি খুবই দুঃখ জনক। জেলা প্রশাসক মহোদয় কর্মস্থলে ফিরে আসলেই তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কুড়িগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহরিয়ার জানান, মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২৩/২৩