এক ভাইয়ের জানাজার পর এলো আরেক ভাইয়ের লাশ

শিক্ষাবার্তা ডেস্ক; সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ পাথরঘাটার নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বায়েজিদের মরদেহ পাঁচ দিন পর এবং বুধবার সকাল নয়টায় ইউসুফের মরদেহ ছয়দিন পর উদ্ধার হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন।

চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান,বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরে ঘাটে ফেরার পথে পাথরঘাটা শহরের সগির হোসেন নামে এক মাঝি দুটি মরদেহ ভাসতে দেখে পাথরঘাটার বলেশ্বর নদতীরবর্তী পদ্মা স্লুইসগেট এলাকায় খবর দেন। পরে পাথরঘাটা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে তিনটি ট্রলারযোগে সুন্দরবনের পখ্খিদিয়া এলাকা থেকে দক্ষিণ জলরাসিতে খুঁজতে বের হন বায়েজিদ ও ইউসুফের স্বজনেরা। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বায়জিদের মরদেহ উদ্ধার করে তিরে নিয়ে আসে। বাকি দুই ট্রলারে ইউসুফের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হলেও গতকাল পর্যন্ত খোজ মিলছিল না।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর জানান, বুধবার সকাল নয়টার দিকে বায়জিদের বাড়ির পাশে নদীর চরে নামাজে জানাজা চলছিল। জানাজা শেষে কালাম নামে এক জেলে খবর দেয় জানাজাস্থলের পাশেই বলেশ্বর নদীতে ইউসুফের মরদেহ ভাসছে। এরপর ইউসুফের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

জেলে আবুল কালাম জানান, নদীতে জাল ফেলে নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণ করার জন্য আসার পথে ইউসুফের মরদেহটি ভাসতে দেখি। এরপর মরদেহটি টেনে চড়ে উঠিয়ে রেখে দৌঁড়ে এসে দেখি জানাজা শুরু হয়েছে গেছে। এরপর নামাজে জানাজা শেষে বিষয়টি জানাই।

গভীর বঙ্গোপসাগর থেকে মরদেহটি বাড়ির ঘাটের পাশে চলে আসার এ আশ্চর্যজনক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জেলেরা জানান, নদীতে কোনো মরদেহ খায় না। কোনো না কোনোভাবে চরে অথবা জনসম্মুখে এনে দেয়। তবে বাড়ি থেকে ৭০-৮০ কিলোমিটার দূরের ঘটনা এভাবে বাড়ির কাছে নিয়ে আসার অলৌকিক ঘটনা এই প্রথম।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে পাথরঘাটা থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম সুন্দরবনের পক্কিদিয়া লাচি এলাকায় ট্রলার ডুবে পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) পদ্মা গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রহিম ব্যাপারীর ছেলে ইউসুফ ব্যাপারী (২৩) ও আমিন ব্যাপারীর ছেলে বায়েজিদ (১৭) নিখোঁজ হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউসুফ একবছর আগে বিবাহ করেছে। তার স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। নদী থেকে এসে ইউসুফ তার স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাবেন (চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেন) স্ত্রীকে এমনটাই বলে গেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ একই বাড়ির দুটি তরুণ ছেলের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত সঞ্জয় মজুমদার বলেন, জেলেরা নিখোঁজের পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পাথরঘাটা থানা পুলিশ যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে। এখন নিখোঁজ দুই জেলেই উদ্ধার হয়েছে। তবে পরিবারের থেকে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১২/২৩