এক জেলাতেই ৪০০ স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৬২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৯৯টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। শতকরা হিসেবে প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষক নেই। এতে সুষ্ঠু পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের অভিযোগ, শহরের বিদ্যালয়গুলোতে অবসরের কারণে পদ শূন্য হলে তা পূরণ করা হলেও গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ের পদগুলো শূন্যই থেকে যাচ্ছে। এতে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মধুপুরে ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২০টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। একইভাবে ধনবাড়ীতে ৮৫টির মধ্যে ২৭, ঘাটাইলে ১৭২টির মধ্যে ৯০, সখীপুরে ১৪৭টির মধ্যে ১৫, গোপালপুরে ১৬১টির মধ্যে ৪৯, বাসাইলে ৭৯টির মধ্যে ১৩, সদর উপজেলায় ১৬৩টির মধ্যে ৩১, দেলদুয়ারে ১০০টির মধ্যে ২৮, মির্জাপুরে ১৭০টির মধ্যে ২৩, কালিহাতীতে ১৭০টির মধ্যে ২৯, নাগরপুরে ১৫৬টির মধ্যে ৪৬ এবং ভূঞাপুরে ১১০টির মধ্যে ২৮টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সূত্রমতে, প্রধান শিক্ষকের পদগুলোর ৬৫ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৩৫ ভাগ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ হচ্ছে না। আবার সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়াও বন্ধ রয়েছে। তাই প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা যাচ্ছে না।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার যমুনার চরাঞ্চলে পূর্ব রামাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদে চলতি দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান মিয়া। তাকে প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষাদানের পুরো বিষয় বাকি দুজন সহকারী শিক্ষককে সামলাতে হয়। সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আসাদুজ্জামান মিয়াকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ কাজে তাকে প্রতি মাসেই উপজেলা সদরে যেতে হয়। ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়।’

এ অবস্থা শুধু পূর্ব রামাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, প্রধান শিক্ষকবিহীন প্রায় সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

সদর উপজেলার বাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছফেদা খানম এক মাস আগে অবসরে গেছেন। সেখানে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহকারী শিক্ষক আছমা পারভীনকে। এভাবেই বিদ্যালয়গুলোতে পদ শূন্য হলে সহকারী একজনকে চলতি দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয় চালানো হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্যই থেকে যাচ্ছে।

একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহর বা শহরতলির স্কুলগুলোতে অবসরের কারণে পদ শূন্য হলে অন্য এলাকা থেকে বদলি করে পদ পূরণ করা হয়। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলোতে অবসরে যাওয়ার পর পদ শূন্যই থেকে যাচ্ছে। তাই প্রধান শিক্ষকশূন্য বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। এতে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করছে। পদোন্নতি হলে শূন্য পদগুলো পূরণ করা যাবে।’

টাঙ্গাইলের সরকারি এম এম আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ শামসুল হুদা বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিশুদের শিক্ষার ভিত তৈরি হয়। তাই সেখানে পাঠদান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পদোন্নতি ও নিয়োগসংক্রান্ত সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শহর ও গ্রামগুলোর শিক্ষাব্যবস্থাও সমান্তরাল হওয়া প্রয়োজন।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৬/২৩