একসঙ্গে এসএসসি পাস করা সেই বাবা-ছেলেকে ডিসির সংবর্ধনা

নিউজ ডেস্ক।।

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় একসঙ্গে এসএসসি পাশ করে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সেই বাবা-ছেলেকে সংবর্ধনা দিলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি)। গতকাল বুধবার ‘একসঙ্গে এসএসসি পাস বাবা-ছেলের’ এই শিরোনামে আমাদের সময়ে খবর প্রকাশিত হলে তা নজরে আসে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের। পরক্ষণেই মুঠোফোনে সেই বাবা-ছেলেকে শুভেচ্ছা জানান তিনি এবং আমন্ত্রণ জানান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে।

পরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাবা-ছেলেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সংবর্ধনা দেন জেলা প্রশাসক। জেলা প্রশাসক শামিম আহমদে বাবা ছেলেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘লেখাপড়ার বয়স নেই, লজ্জা ভুলে আপনারা যে কাজ করেছেন তা সমাজের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

এ সময় ডিসি তাদের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য সকল ধরনের সাহায্য করবেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, বাবা ইমামুল ইসলাম এবং ছেলে আবু রায়হান দুজনেই কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বাবা জিপিএ ৪.৭৯ এবং ছেলে ৪.৮২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

ইমামুল ইসলাম পড়ালেখা বন্ধের দীর্ঘ ২৪ বছর পর ছেলের সঙ্গে স্কুলে ভর্তি হয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সংসারের অভাব অনটনের কারণে অষ্টম শ্রেণি পাশের পরে আর স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পড়ালেখা ছেড়ে জীবিকার তাগিদে ২৪ বছর আগে তিনি ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানে প্রায় ১৮ বছর গার্মেন্টসে চাকরি করেন। ২০১৬ সালে চাকরি ছেড়ে বাড়ি ফিরেন। এরপর জমানো টাকা দিয়ে গ্রামে আমের ব্যবসা শুরু করেন। পাশাপাশি বাড়ির পাশে একটি ছোট মুদির দোকান দেন।

তবুও মনের ভেতর লেখাপড়া করতে না পারার চাপা কষ্ট মাঝে মধ্যেই তাকে পীড়া দিত। লোকলজ্জায় পড়ালেখা হয়ে উঠছিল না। সমাজে আর দশটা মানুষের মতো নিজেকেও একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে যেন পরিচয় দিতে পারেন সেই উদ্দেশ্যেই পারিবারিক সিদ্ধান্তে অবশেষে ২০২০ সালে ছেলের সঙ্গে বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের ভোকেশনাল শাখার নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন।

ইমামুল ইসলামের বাড়ি উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের চকতকিনগর গ্রামে। তিনি পড়ালেখা করে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান। আবু রায়হান তার সঙ্গে তার বাবা পাশ করায় আনন্দিত।