একদফা ভাঙা মাউশিকে আরেক দফা ভাঙার সুপারিশ

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ভেঙে দুই ভাগ করার সুপারিশ করা হয়েছে। একটি ভাগের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’। শুধু মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার জন্য এই অধিদপ্তর কাজ করবে। আর অপরটির নাম হবে ‘উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর’। এটি উচ্চ মাধ্যমিক ও পরবর্তী স্তরের শিক্ষা নিয়ে কাজ করবে।

আগামী ২৪ জানুয়ারি ঢাকায় তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে। সম্মেলনকে সামনে রেখে ডিসিরা বিভিন্ন বিষয়ে আগাম সুপারিশ পাঠিয়েছেন। তাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর মোট ৯টি সুপারিশ এসেছে। এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে ৮টি সুপারিশ করেছেন তারা।

মাউশি ইতোমধ্যে একদফা ভাঙা হয়েছে। সংস্থাটিতে আগে মাদ্রাসা শিক্ষার দাপ্তরিক কাজ করা হতো। ২০১৫ সালের জুনে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিএমই) নামে স্বতন্ত্র আরেকটি সংস্থা গঠন করা হয়। মূলত মাউশির কাজের বোঝা দুর্নীতি কমাতে ডিএমই গঠন করা হয়। কিন্তু মাউশির কাজের বোঝা কমলেও মাদ্রাসার শিক্ষকসহ সেবাপ্রার্থীরা দুর্নীতির গ্যাঁড়াকল থেকে মুক্তি পায়নি। বিশেষ করে ওই সংস্থায় কর্মরত কয়েক কর্মকর্তার সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের তৎকালীন সচিবকে বদলি করা হয়।

তিন দিনব্যাপী সম্মেলন শেষ হবে ২৬ জানুয়ারি। এ সম্মেলন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন। এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোলেমান খানের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে যুগান্তরকে বলেন, তারা ডিসিদের পাঠানো সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত ১৬ জানুয়ারি পেয়েছেন। সেগুলোর ওপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থা থেকে মতামত নেওয়ার কাজ চলছে।

এদিকে মাউশিকে দুই ভাগ করার প্রস্তাব প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, প্রয়োজনে যে কোনো সংস্কারই হতে পারে। শিক্ষার ক্ষেত্রে তেমন প্রয়োজন দেখবে শিক্ষা বিভাগ বা মন্ত্রণালয়। কিন্তু তারা (ডিসি) যে সুপারিশ বা প্রস্তাব করেছেন তা তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত ও দুরভিসন্ধিমূলক। এটা মূলত শিক্ষা বিভাগ দখলেরই পূর্বপ্রস্তুতিমূলক তৎপরতা। কেননা এর আগে তারা কারিগরি ও মাদ্রাসার কাজ আলাদা করে দুটি বিভাগ করে দখল করে নিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও তারা দখল করে নিয়েছেন। এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষা ক্যাডারের ১৫ হাজার কর্মকর্তা এটা রুখে দাঁড়াবে বলে মনে করেন।

জানা গেছে, মাদারীপুরের ডিসি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ থেকে জারি করা সব পত্র ও পরিপত্রের একটি অনুলিপি ডিসি এবং ইউএনওদের দেওয়ার সুপারিশ করেন। ঝিনাইদহের ডিসির সুপারিশ হচ্ছে, বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য আচরণবিধি তৈরি করা যেতে পারে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি উল্লেখ করেন, তারা সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকছেন। এছাড়া কেউ ঠিকাদারি, সাংবাদিকতাসহ অন্য পেশায়ও যুক্ত আছেন। এতে সার্বিকভাবে শ্রেণি কার্যক্রমে তারা দায়সারাভাবে অংশ নিচ্ছেন। বিধিমালায় তাদের শিক্ষকতায় থাকাকালীন রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণে নিরুৎসাহিত করার দিকটি রাখার সুপারিশ আছে। এতে শিক্ষার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন তিনি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৯/২৩