এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ আগামী ১০-১১ ফেব্রুয়ারি এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরিকল্পনা করছে আন্তঃ সমন্বয়ক শিক্ষাবোর্ড। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতির ওপর।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর তপন কুমার সরকার জনকণ্ঠকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একারণে ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে আবেদন করবে। সম্মতি মিললেই ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। গতবছরের ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হবে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁসের গুজব ঠেকাতে এবার ৪২ দিন বন্ধ ছিল কোচিং সেন্টার।

এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশ্নের গোপনীয়তা রক্ষায় সতর্ক অবস্থায় ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, ছাপানো থেকে শুরু করে পরীক্ষার হল পর্যন্ত প্রশ্ন পৌছাতে শিক্ষাবোর্ডগুলোকে নতুন নির্দেশনাও দেয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী এইচএসসি পরীক্ষার জেলা পর্যায়ে প্রশ্ন সর্টিং করেন জেলা ট্রেজারি কর্মকর্তা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থানা পর্যায়ে এ কাজ তদারকি করেন।

গতবছরের তুলনায় এবছর প্রায় ২ লাখ পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় কম অংশ নিয়েছে। ২০২১ সালে এইচএসসিতে ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এবার ১২ লাখ ৩ হাজার ৪০৭ জন পরীক্ষায় বসে। দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কমলেও পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে ২৮টি হয়।

এর কারণ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্লাসের পাঠদান বন্ধ থাকায় পেছনের কয়েকটি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেয়া হয়েছে। সে কারণে পাসের হার বেড়ে যায় বলে অনিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।

১১টি শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯ হাজার ১৮১টি প্রতিষ্ঠানে ২ হাজার ৬৪৯টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৩ হাজার ৪০৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এদের মধ্যে ৬ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ জন ছাত্র এবং ৫ লাখ ৮০ হাজার ৬১১ জন ছাত্রী।

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও গত বছর করোনা মহামারির কারণে পিছিয়ে যায়। এ বছর করোনার ও বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পেছানো হয়। তবে এ বছর ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষা হবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে, আর এইচএসসি হবে জুনের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে।

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সব বিষয়েই নেয়া হবে। প্রতি বিষয়ে স্বাভাবিক সময় বা তিন ঘণ্টায় পরীক্ষা হবে। সৃজনশীল এবং নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন (এমসিকিউ) থাকবে আগের মতোই। এসএসসি পর্যায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১২/২৩