এইচএসসির প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক ‘উসকানিদাতাকে’ চিহ্নিত করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার বাংলা প্রশ্নপত্রের একটি প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক উসকানির ব্যাপারটিকে ‘দুঃখজনক’ বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘উসকানিদাতাকে’ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

সোমবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

দীপু মনি বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক যে কোনো একজন প্রশ্নকর্তা এই প্রশ্নটি করেছেন এবং যিনি মডারেট করেছেন, সেটি তারও দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে কোনোভাবে। আমরা চিহ্নিত করছি, এই প্রশ্ন সেট এবং মডারেট কে করেছেন। সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রে ঢাকা ও কৃমিল্লা বোর্ডের দুটি সৃজনশীল প্রশ্নে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগ উঠেছে। রোববার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া থাকে যে কী কী বিষয় মাথায় রেখে প্রশ্নগুলো তারা করবেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতার কোনো কিছু যেন না থাকে সেটিও নির্দেশিকায় আছে।

এসময় কারিগরি বোর্ডের বাংলা-১ নতুন ও পুরাতন বিষয় স্থগিত করা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে নতুন ও পুরনো প্রশ্ন গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড এমনটা করেছে বলে সেটা আমাদের এখনও মনে হচ্ছে না। আমাদের মনে হচ্ছে যে, প্রশ্ন যখন ছাপা হয়েছে, ছাপা হওয়ার ক্ষেত্রে একটা ত্রুটি থেকে যেতে পারে। আরেকটা হচ্ছে ছাপা হওয়ার পরে যে প্যাকিং, কোনো একটা পর্যায়ে ত্রুটি ঘটেছে। যে কারণে এটা স্থগিত করা হয়েছে।

প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সাম্প্রদায়িকতার উসকানির অংশ- ‘নেপাল ও গোপাল দুই ভাই। দীর্ঘদিন জমি নিয়ে বিরোধ তাদের। অনেক বিচার করেও কেউ তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এখন জমির ভাগ বণ্টন নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। ছোট ভাই নেপাল বড় ভাইকে শায়েস্তা করতে আব্দুল নামে এক মুসলমানের কাছে ভিটের জমির এক অংশ বিক্রি করে।

আব্দুল সেখানে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। কোরবানির ঈদে তিনি নেপালের বাড়ির সামনে গরু কোরবানি দেয়। এ ঘটনায় নেপালের মন ভেঙে যায়। কিছুদিন পর কাউকে কিছু না বলে জমি-জায়গা ফেলে সপরিবারে ভারতে চলে যায়।’