এইচএসসিতে নেই ২ লাখ শিক্ষার্থী

নিউজ ডেস্ক।।

এসএসসির পর এবার এইচএসসিতেও কমেছে পরীক্ষার্থী। শিক্ষা বোর্ডগুলোর দেয়া তথ্য মতে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ঝরে পড়েছে প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী। আগামী ৬ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এই পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় ২০২১ সালের তুলনায় এক লাখ ৯৬ হাজার ২৮৩ জন শিক্ষার্থী কম। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষাতেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই লাখের বেশি কমেছে।

সূত্র মতে, করোনা ও বন্যার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দুই লাখ ২১ হাজার পরীক্ষার্থী কমেছে। এবার এইচএসসিতে প্রতিষ্ঠান কমেছে ২টি। অপর দিকে কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে ২৮টি। সূত্র মতে, এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী। সবচেয়ে কম পরীক্ষার্থী অংশ নেবে বরিশাল বোর্ড থেকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গতকাল বুধবার এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি। তিনি বলেন, প্রথমে বহুনির্বাচনী এবং পরে রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, মাঝে কোনো বিরতি থাকবে না। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর বড় সংখ্যার শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্লাসের পাঠদান বন্ধ থাকায় পেছনের কয়েকটি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেয়া হয়েছে। সে কারণে পাসের হার বেড়ে যাওয়ায় অনিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। এজন্য এবার প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী কমে গেছে। এটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব শিক্ষার্থী গত দুই বছর আগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি বলে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
দেশের ১১ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী : এবারের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯ হাজার ১৮১টি প্রতিষ্ঠান এবং দুই হাজার ৬৪৯টি কেন্দ্রে ১২ লাখ তিন হাজার ৪০৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ছয় লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ ছাত্র এবং পাঁচ লাখ ৮০ হাজার ৬১১ জন ছাত্রী।

সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ড : ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের চার হাজার ৬৪৭টি প্রতিষ্ঠান এবং এক হাজার ৫২৮টি কেন্দ্রে ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে চার লাখ ৮২ হাজার ১৮৩ ছাত্র এবং পাঁচ লাখ তিন হাজার ৫৩০ জন ছাত্রী। তার মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে দুই লাখ ৪০ হাজার ৫০৬ জন, মানবিক বিভাগে পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ৬৭১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এক লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৬ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।

মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড : মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দুই হাজার ৬৭৮টি প্রতিষ্ঠান এবং ৪৪৮টি কেন্দ্রে ৯৪ হাজার ৭৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ৫১ হাজার ৬৯৫ জন ছাত্র এবং ৪৩ হাজার ৬৮ জন ছাত্রী। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক হাজার ৮৫৬টি প্রতিষ্ঠান এবং ৬৭৩টি কেন্দ্রে এক লাখ ২২ হাজার ৯৩১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ৮৮ হাজার ৯১৮ জন ছাত্র এবং ৩৪১৩ জন ছাত্রী।

বিদেশে আট কেন্দ্র : এবার বাইরের আটটি দেশে এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। তার মধ্যে জেদ্দায় ৫১ জন, রিয়াদে ২০ জন, ত্রিপলিতে চারজন, দোহায় ৬২ জন, আবুধাবিতে ২৭ জন, দুবাইয়ে ২১ জন, বাহরাইনে ১৫ জন এবং সাহাম, ওমানে ২২ জন মিলে ২২২ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এসএমএসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রশ্নপত্রর সেট কোড জানিয়ে দেয়া হবে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। অভিভাবকদেরও সামাজিক দূরত্ব রেখে চলাফেরার অনুরোধ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতি লেখ) সাথে নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থী এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী পরীক্ষাথীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেয়া হবে।

প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা : পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ থাকছে না বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রশ্ন বিতরণ ও আনা- নেয়ায় নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হবে। আগের ঘটনা থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি বছরের এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সচিবের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখেছি। এ বিষয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, আমরা পেছনের ঘটনা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমাদের কোথায় কোথায় গ্যাপ বা ফাঁক ছিল সেটি চিহ্নিত করা হয়েছে। পরবর্তী পরীক্ষায় যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, আমরা সে বিষয়ে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা কমিটির সভায় আলোচনা করেছি।