উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা প্রাথমিকের সহকারি শিক্ষক

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে সদস্য পদ পেয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক। সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের পদ পাওয়া নিয়ে উপজেলার সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গত শুক্রবার রাতে নবগঠিত কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ওই শিক্ষকের নাম জি এম জসিম উদ্দিন (৫২)। তিনি উপজেলার আচ্চাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁর বাড়ি উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আচ্চাকান্দি গ্রামে।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯-এর রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ অংশে বলা আছে, সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক দলের কোনো অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে অথবা অন্য কোনোভাবে যুক্ত হতে পারবেন না অথবা বাংলাদেশ বা বিদেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে বা কোনো প্রকারের সহায়তা করতে পারবেন না। অথচ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ভঙ্গ করে ওই শিক্ষক আওয়ামী লীগের সদস্য পদ পেয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ জানুয়ারি বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যের একটি নতুন কমিটির অনুমোদন দেয় জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ। শুক্রবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির ৫৮ ক্রমিক নম্বরের সদস্য পদে আচ্চাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জি এম জসিম উদ্দিনের নাম রয়েছে। এর পর থেকে একজন সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষককে কমিটিতে পদ দেওয়া নিয়ে উপজেলার সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

মুঠোফোনে শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের আগে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালে তাঁর বিদ্যালয় সরকারি হওয়ার পর তিনি রাজনৈতিক সব পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

আর নতুন করে পদ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন,‘আমার বয়স এখন ৫২ বছর। যাঁরা উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমাকে সদস্য পদ দিয়েছেন, তাঁরা আমার সঙ্গে আলোচনা করেননি। আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমেই আমি জানতে পারছি, উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে আমাকে সদস্য করা হয়েছে। সত্যিকার অর্থে এই বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। আমি বিষয়টি জানতামই না। আমি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করব।’

জামালপুর জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী একজন সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সক্রিয় রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি। ঘটনাটি যদি সঠিক হয়ে থাকে নিশ্চয় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি শাহীনা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি একটি বৈঠকে আছেন বলে এ বিষয়ে কথা বলেননি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৭/২৩