ইলিশ ধরা বন্ধ ৭ অক্টোবর থেকে, ইলিশের দাম সাধারনের নাগালের বাইরে

সোমবার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ২০০ গ্রাম থেকে প্রায় ২ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ রয়েছে। দাম ৪০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে। নিষেধাজ্ঞাকে সামনে রেখে বাজারে আকারভেদে কেজি প্রতি ইলিশের দাম বেড়েছে ৫০-১০০ টাকা।

পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আর কয়েক দিন পরেই ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। তাই বাজারে মাছের সরবরাহ বেশি। কিন্তু হঠাৎ করেই আজ ৫০-১০০ টাকা দাম বেড়েছে। গতকালও যে মাছ ৮০০ টাকা ছিল, সেটি আজ ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সামনে আরও দাম বাড়তে পারে। বর্তমান বাজারে চরমোন্তাজ ও মৌডুবি এলাকার মাছ বেশি আসছে।

ব্যবসায়ী তালেফ খলিফা বলেন, আর মাত্র ৩ দিন কেনা-বেচা হবে। বর্তমানে মাছের অফুরন্ত সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে হঠাৎ করেই দাম কিছুটা বেড়েছে। সামনের কয়েকদিন আরো বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, বাজারে ক্রেতার সংখ্যাও অনেক। যারা সাপ্তাহিক বাজারে এসেছেন, তারা অন্তত ৫ কেজি পরিমাণ মাছ কিনছেন। কেউ কেউ আরো বেশি নিচ্ছেন।

বাজারের আসা ক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, সকাল থেকে কয়েকটি বাজার ঘুরে এখানে এসেছি। ওইসব বাজারে দেড় কেজির বেশি ওজনের মাছের দাম চেয়েছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা। কিন্তু পাইকারি বাজারে এসে দেখলাম দাম কিছুটা কম। তবে একেবারেই যে কম, তা নয়।

রাঙ্গাবালীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ২০০ থেকে সাড়ে ৩০০ গ্রাম ওজনের মাছের কেজি ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, ৫০০ গ্রামের অধিক ওজনের মাছের কেজি ৭৫০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের মাছের কেজি ১০০০ টাকা, ৮০০ থেকে ১ কেজি ওজনের মাছের কেজি ১২০০
থেকে ১৩৫০ টাকা।

এছাড়া, ১ কেজির বেশি ওজনের মাছের কেজি ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা। দেড় থেকে ২ কেজি ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়।

অবরোধ কেমন হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল হক বাবুল বলেন, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় অতীতের মতো এবারো কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। যদি কেউ অবৈধভাবে মাছ ধরে বা বাজার যাত করে তাহলে এসব অসাধু ব্যক্তিদের ছাড় দেয়া হবে না। ইলিশ সম্পদ ধ্বংসকারী দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। দিনে অভিযানের পাশাপাশি এবার রাতেও অভিযান জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর বরফ কল বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। গত বছরের মতো এবারো অবৈধ জাল উৎপাদনস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধ পথে ইলিশ পাচার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইলিশ সম্পৃক্ত ইউনিয়নগুলোর নদীতে ড্রেজিং বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। ইলিশের নিরাপদ প্রজননের মাধ্যমে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে যা যা করা দরকার তার সবই করা হবে।