ইবির ছাত্রী হলে রাতভর বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক।।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) খালেদা জিয়া হলের এক ছাত্রীকে হেনস্থা ও তার সাথে থাকা বন্ধুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রী পাপিয়া পপি বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান হাফিজ রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় হলের ছাত্রীরা সন্ধ্যার পর থেকে হল গেটে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তকে বহিষ্কারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। রাত ৮টার দিকে প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চাইলে ব্যর্থ হন। পরে রাত ১১টার দিকে প্রভোস্টের আশ্বাসে তারা আন্দোলন স্থগিত করে।

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে, বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী পাপিয়া পপি ও তার বন্ধু প্রধান ফটকে ঘুরতে যায়। ওই সময় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান হাফিজ তার সহযোগীসহ পপিকে জেরা করে। ঘটনার এক পর্যায়ে হাফিজ ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী পপির সাথে ধস্তাধস্তি হয়। এসময় তার সঙ্গে থাকা বন্ধু আইসিটি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পথিক প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করেন তারা।

এর আগে হলের সিট নিয়ে হাফিজের গার্লফ্রেন্ড রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সায়মার সাথে পপির কথা কাটাকাটি হয় বলে জানা গেছে। হাফিজের রেফারেন্সে সায়মা খালেদা জিয়া হলের নতুন ব্লকের ২০৪ নম্বর রুমের সীটে উঠে।

ভুক্তভোগী পপি বলেন, হাফিজের গার্লফ্রেন্ড সায়মা জানালার পার্শ্বে সীট চাইলে আমি বলি সিনিয়ররা জানালার পার্শ্বে উঠতে পারে। ওইখানে এক সিনিয়ার আছে তুমি সিনিয়ার হলে জানালার পার্শ্বে যেতে পারবে। তাকে সেখানে উঠতে না দেয়ায় বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগ কর্মী হাফিজ মেইন গেট এলাকায় আমাকে হেনস্থা ও আমার সাথে থাকা বন্ধুকে মারধর করে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাফিজ বলেন, ‘আমি কোন মেয়েকে হেনস্থা করিনি। বিকেলের দিকে মেন গেট এলাকায় এক ছাত্রের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। ওই মেয়ে ওই ছাত্রের গার্লফেন্ড হতে পারে। কিন্তু আমি কোন মেয়েকে হেনস্থা করিনি। হলের সীটের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা এবং ষড়যন্ত্রমূলক।’

হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আরা সাথী বলেন, শুক্রবার সকাল ৯টায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসে এ বিষয়ে আলোচনা করবো। আশাকরি বিষয়টি সমাধান হবে।