ইবিতে সেশনজট কমছে না

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ সেশনজট থেকে মুক্ত হতে পারছে না ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। বিশেষ করে পুরোনো বিভাগগুলোয় জট তীব্র আকার ধারণ করছে। বিভাগীয় শিক্ষকদের অন্তর্কোন্দল, খাতা দেখতে সময়ক্ষেপণ, ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতি, প্রশাসনে ফাইল জটিলতা, নিয়মের বেড়াজাল এবং সান্ধ্যকালীন কোর্সের প্রতি গুরুত্ব আরোপ সেশনজটের মূল কারণ বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পরিসংখ্যান, আইন, আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ, ম্যানেজমেন্ট, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সেশনজট তীব্র।

ইংরেজি বিভাগের এমএ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফল পাননি। বিভাগটির স্নাতক ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ২০২১ সালে সম্মান পরীক্ষা শেষ করেছেন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও স্নাতকোত্তরের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। যদিও বিভাগটিতে ২৭ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

এদিকে বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলা বিভাগের এমএ ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম সেমিস্টারের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। বিভাগ সূত্র জানায়, মান উন্নয়ন পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মের বেড়াজাল, একই পরীক্ষায় এক শিক্ষার্থীর বারবার অকৃতকার্য হওয়া এবং সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে সময় অনুযায়ী ফল প্রকাশ করতে পারেনি বিভাগটি। বিভাগটিতে শিক্ষকের সংখ্যা ১৮ জন।

বিভাগটির এমএ পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. রাশিদুজ্জামান বলেন, পরীক্ষা নিতে গেলে কাছাকাছি দুটি বর্ষের ছাড়পত্র লাগে। আমরা অনেক সময় সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের টেবিলে পাই না। অনেক সময় অনুমোদনের স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

আইন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এলএলবি পরীক্ষা সম্পন্ন করে বছর পেরিয়ে গেলেও এলএলএমের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় বসতে পারেননি। তাঁদের এলএলবির মান উন্নয়ন পরীক্ষার ফল প্রকাশ না হওয়ায় জট তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থীরা মাত্র এলএলবির গণ্ডি পেরিয়েছেন। মান উন্নয়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় তাঁরা এলএলএম শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারছেন না। পরিসংখ্যান বিভাগে একই বর্ষের শিক্ষার্থীরা মাত্র সম্মান পার করে স্নাতকোত্তরে প্রথম সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করেছেন। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া গণিত, সিএসই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক সম্পন্ন করতেই পেরিয়ে গেছে ছয় বছর। তাঁরা এখন স্নাতকোত্তরে প্রথম সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করেছেন।

অন্যদিকে, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের অন্যান্য বিভাগের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কিছু বিভাগ ফল প্রকাশ করেছে। তবে নতুন বিভাগগুলোয় এখনও সেশনজট দেখা যায়নি। গত সাত বছরে সৃষ্ট নতুন বিভাগগুলো শিক্ষক সংকটের মধ্য থেকেও সেশনজট ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সেশনজটে পড়া বিভাগগুলোর একাধিক শিক্ষার্থী সমকালকে বলেন, শিক্ষকরা খাতা দেখতে কালক্ষেপণ করেন। একজন জমা দিলে অন্যজন আটক রাখেন। অনেক সময় শিক্ষকদের মধ্যে অন্তর্কোন্দলের কথা শোনা যায়। কারণ, ১০০ খাতা দেখতে ছয় মাস লাগার কথা না। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ অনেক শিক্ষক সময়মতো ক্লাস নেন না। বিভাগ, সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশাসনের অবহেলা সেশনজটের অন্যতম কারণ।

সেশনজট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম বলেন, একাডেমিক জটিলতা থাকলে আমার সঙ্গে আলোচনা করলে আমি অবশ্যই সেটার সমাধান করে দেব। এখন পর্যন্ত এসব নিয়ে কেউ আসেননি। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সচেতন হতে হবে। তাদের উচিত শিক্ষকদের কাছ থেকে ঠিক সময়ে ক্লাস-পরীক্ষা আদায় করে নেওয়া।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২৩/২৩